কাঠের জ্বালানি নয়, এবার গ্যাসেই হবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না, নয়া উদ্যোগ রাজ্যের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস। কাঠের জ্বালানির দমবন্ধ করা ধোঁয়া থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে চলেছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের অঙ্গনওয়াড়ি (Anganwadi) কর্মীরা। এই জেলার প্রায় তিন হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে রান্নার জন্য কাঠ কয়লার বদলে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার সরবরাহের প্রক্রিয়া খুব তাড়াতাড়ি শুরু হতে চলেছে। রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশের পর চলতি মাস থেকেই গ্যাসের জ্বালানিতে রান্না শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এর ফল স্বরূপ, সরকারের পোষণ প্রকল্পের আওতায় শিশুদের জন্য খাবার তৈরির কাজটি আরও সহজে সম্পন্ন করা যাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।

পরিকাঠামো থাকলেও ছিল না সিলিন্ডার

এর আগেও প্রায় তিন বছর আগে জেলার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে এলপিজি সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট ডিলারদের মাধ্যমে অধিকাংশ কেন্দ্রের নামে গ্যাসের সংযোগও করা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক বছর আগেই কেন্দ্রগুলিতে রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় বার্নার এবং ওভেন পৌঁছে যায়। কিন্তু গ্যাস ফুরিয়ে গেলে পুনরায় সিলিন্ডার রিফিল করার খরচ কে বহন করবে এবং কীভাবে নিয়মিতভাবে গ্যাস সরবরাহ হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও নির্দেশ ছিল না। তাই এতদিন ওই পরিকাঠামো কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। অর্থ দফতরের তরফে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির গ্যাস সিলিন্ডার রিফিলের জন্য জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই দক্ষিণ দিনাজপুরে গ্যাস সরবরাহ শুরু করার জোর কদমে প্রস্তুতি চলছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, সোমবারই এই অর্ডার করা হয়েছে। ফলে খুব শীঘ্রই কেন্দ্রগুলিতে গ্যাসের সাহায্যে রান্না শুরু হবে, এমনটা আশা করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ বাতিল, অভিষেকের বাড়ির পাঁচিল টপকে সুমিত রায়কে গ্রেফতার করল পুলিশ

ডিলারদের মধ্যে এখনও কিছুটা সংশয় রয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থায় কোন পদ্ধতিতে সিলিন্ডার সরবরাহ হবে এবং সরকার নির্ধারিত দাম ইত্যাদি বিষয়গুলি জেলার গ্যাস ডিলারদের কাছে এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট হয়নি। তাই নিয়মিত সরবরাহ ঠিক কবে থেকে শুরু হবে, তা নিয়ে সামান্য অনিশ্চয়তা রয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের একাংশ অবশ্য দ্রুত এই ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঠ বা অন্যান্য জ্বালানি জোগাড় করতে তাঁদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। গ্যাসে রান্না শুরু হলে সেই দুর্ভোগ থেকে তাঁরা অনেকটাই মুক্তি পাবে।

Leave a Comment