জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানি, মমতা ও ঋতব্রত দুই তৃণমূলকে দিল্লিতে তলব কমিশনের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জোড়াফুল কার? মমতার কালিঘাট নাকি ঋতব্রত শিবিরের, এই জল্পনা চলছে তৃণমূল (Trinamool Congress) ভাঙার পর থেকেই। ইতিমধ্যেই জোড়াফুল প্রতীক নিজের দাবি করে নির্বাচন কমিশনকে দু’দুবার চিঠি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে উঠবে এই প্রতীক তা এখনও অস্পষ্ট। এদিকে আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেই জানিয়েছে কমিশন। সেই সূত্রে প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে দড়ি টানাটানি। এমনকি সেই ইস্যুকে সামনে রেখেই দুই শিবিরকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছে কমিশন।

দিল্লিতে দুই তৃণমূলকে ডাক কমিশনের

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ঋতব্রত শিবির এবং মমতার কালীঘাট তৃণমূল, দুই দলেরই প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফ থেকে। এমনকি এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শিবিরকে ডাকা হয়েছে বলেই খবর। এ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠিও পাঠিয়েছে কমিশন। তবে ওই দিনই জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে কিনা তা এখনই বলা সম্ভব নয়। এমনকি দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশন সিদ্ধান্ত নিতে আরও বেশ কিছুটা সময় নেবে কিনা তাও বলা যাচ্ছে না। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এখন এই দিনটির দিকেই তাকিয়ে।

যদিও মমতার শিবিরের তরফ থেকে সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রার্থী ঘোষণা এবং প্রচার শুরু করার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও বাধা নেই। আদর্শ আচরণবিধি জারি হয়েছে ইতিমধ্যেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই ছিল প্রতীক দেওয়ার অধিকার। কমিশন এ বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি করেনি। এমনকি মমতার প্রতীক অনুমোদনের ক্ষমতা বাতিল করার কোনও নোটিশও পাঠায়নি কমিশন। তাই উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের জোড়াফুল প্রতীক দেওয়ার অধিকার কালীঘাট তৃণমূলেরই রয়েছে।

আরও পড়ুন: কাঠের জ্বালানি নয়, এবার গ্যাসেই হবে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের রান্না, নয়া উদ্যোগ রাজ্যের

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নিজেদেরকেই আসল তৃণমূল বলে দাবি করে আসছে প্রথম থেকে। তবে জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে তাদের অবস্থান এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট করে জানাননি তারা। দলীয় কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবারের মধ্যে কমিশন প্রতীক নিয়ে কোনও নির্দেশ দিতে পারে। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের দাবি, নন্দীগ্রামে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন, তাহলে সেখানে তারা প্রার্থী দেবেন না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে জেতার সুযোগ করে দেবেন এবং তাঁকে সমর্থন করবেন। তবে প্রতীক নিয়ে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা জানতে ১২ সেপ্টেম্বরের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে সকলের।

Leave a Comment