প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে আমাদের গ্যাস, অম্বল মাঝে মধ্যেই হয়ে থাকে, তাই সেক্ষেত্রে শুরু থেকেই সঠিক খাদ্যাভাসে মনোযোগ দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। আসলে আমাদের শরীরের এনার্জি সেন্টারের সঙ্গে এমনই কিছু চক্রের যোগ রয়েছে যা বিভিন্ন শিরা, উপশিরা ও অঙ্গ, প্রত্যঙ্গগুলির মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করে চলে প্রতিনিয়ত। আপনি কি জানেন (GK) মানুষের পাকস্থলীর অ্যাসিড (Stomach Acid) রেজার ব্লেড (razor blade facts) গলিয়ে ফেলতে পারে? শুনতে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি। চলুন আমাদের আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক।
পাকস্থলী অ্যাসিড মারাত্মক ক্ষতিকর
চিকিৎসকদের মতে, আমাদের পাকস্থলীতে রয়েছে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড, যা অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষয়কারী একটি রাসায়নিক। এই অ্যাসিড এতটাই তীব্র যে এটি লোহা বা ইস্পাতের মতো ধাতু গলিয়ে ফেলতে পারে। শুধু তাই নয় শরীরের অন্য কোথাও বা চামড়ার ওপর এই অ্যাসিড লাগলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। শরীরে এই অ্যাসিডের কাজ হল মূলত হজমে সাহায্য করা ও খাবারের সঙ্গে আসা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো মেরে ফেলা। তবে মানবদেহের পাকস্থলী যে রেজার ব্লেড গলিয়ে ফেলতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে ‘গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোস্কোপি’ নামক জার্নালে।
পাকস্থলীর অ্যাসিডে ক্ষয়ে যাচ্ছে ধাতু
১৯৯৭ সালে ‘গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল এন্ডোস্কোপি’ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় জানা গিয়েছিল যে, গবেষকরা স্টেইনলেস স্টিলের রেজার ব্লেডগুলো এবং কয়েনকে প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কৃত্রিম পাকস্থলীর রসে ডুবিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর ২৪ ঘণ্টা পর দেখা যায় তাদের ভরের এক-তৃতীয়াংশের বেশি ক্ষয় হয়ে গিয়েছে। এ ছাড়াও ডাবল-এজড রেজর ব্লেড প্রায় ১৫ ঘণ্টা অ্যাসিডে থাকার পর এতটাই দুর্বল হয়ে যাচ্ছে যে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে সেটি খুব সহজেই ভাঙা সম্ভব হচ্ছে। তবে মূল বিষয় হল গবেষণাটি কৃত্রিম পাকস্থলীর রস নিয়ে ল্যাবরেটরিতে করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: জানেন কেন নেপালিদের চোখ ছোট ও টানা হয়? রইল আসল তথ্য
আসলে চিকিৎসকদের মতে মানুষের পাকস্থলীতে খাবার দীর্ঘ সময় থাকে না। ফলে ল্যাবের পরীক্ষা সরাসরি মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা ঠিক নয়। তবে এটা প্রমাণিত যে, পাকস্থলীর অ্যাসিড ধাতুকে ক্ষয় করতে পারে এটি সত্য। কিন্তু গিলে ফেলা রেজর ব্লেড দ্রুত বা নিরাপদভাবে গলে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। তাই যদি কেউ ভুলবশত ধারালো কোনো বস্তু গিলে ফেলে তাহলে খাদ্যনালি বা পরিপাকতন্ত্রে গুরুতর ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা জরুরী। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে বস্তুটি অপসারণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।