“আর টাকা দিলেও মিলবে না পেট্রোল” মাথায় হাত পাকিস্তানের জনগণের!

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেই জ্বালানি নিয়ে যথেষ্ট সমস্যায় পড়েছে পাকিস্তান (Pakistan Petrol)। যার কারণে সম্প্রতি সরকারি দপ্তরের গাড়ি কেনায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পশ্চিমের দেশের সরকার (Government Of Pakistan)। শুধু তাই নয়, বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা! পাশাপাশি পাকিস্তানে রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে বাজার রাত নটার মধ্যে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে! এক কথায়, জ্বালানি নিয়ে সমস্যায় পড়তেই কার্যত লকডাউন পরিস্থিতি পাকিস্তানে। সেসবের পর এবার পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, পরিস্থিতি যা তাতে এমনও হতে পারে টাকা দিলেও আর পাওয়া যাবে না পেট্রোল!

টাকা দিলেও আর পেট্রোল পাবেন না পাকিস্তানিরা?

গোটা পাকিস্তান জুড়ে জ্বালানি নিয়ে চরম দুরবস্থার মাঝেই পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক গতকাল অর্থাৎ রবিবার, পশ্চিমের দেশে পেট্রোল এবং ডিজেলের ঘাটতি নিয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। ওই মন্ত্রী জানান, “দেশে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম 1000 রুপি হয়ে যেতে পারে। এমনও পরিস্থিতি হতে পারে যে কোনও মূল্যেই আর পেট্রোল পাওয়া যাবে না।” এক কথায় পাকিস্তানের মন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, দেশটিতে পরিস্থিতি ভয়াবহ হলে আর টাকা দিয়েও মিলবে না পেট্রোল!

বলাই বাহুল্য, পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরই সে দেশের জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। যদিও পাকিস্তানের ওই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী এও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নাকি পাকিস্তানে জ্বালানির ঘাটতি নেই। সেপ্টেম্বরের চালান পাওয়ার পর অক্টোবর মাসের পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই তৈরি করে ফেলেছে পাকিস্তান সরকার। পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রীর বক্তব্য, জ্বালানির ভৌত সরবরাহ বজায় রাখাই তাঁদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ায় আর জায়গা হয় না, রাজনীতিতে পা রাখতে চলেছেন মহম্মদ শামি?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন অন্য কথা

শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের কাছে এই মুহূর্তে যে পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে তা দিয়ে আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া যাবে। তবে আঞ্চলিক সংঘাত শীতের মরসুমেও অব্যাহত থাকলে দেশটিতে জ্বালানির বড় সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে পাকিস্তানের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের এও দাবি, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি হাতের নাগালের বাইরে চলে গেলে পাকিস্তান সরকার বিপুল আর্থিক বোঝা সাধারণ জনগণের উপর চাপিয়ে দিতেও পারে।

Leave a Comment