সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করার পর প্রত্যেক মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) বাবদ ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই চার মাসের টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। তবে অনেকের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কানাকড়ির দেখা মেলেনি। এমনকি জুন-জুলাই মাসে টাকা ঢুকলেও পরে আর ঢোকেনি টাকা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে মহিলাদের বিক্ষোভ। আর এবার সেই সূত্রে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজার বাড়ির সামনেই বিক্ষোভে নামলেন মহিলারা।
বিধায়কের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ মহিলাদের
আগের সরকার যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে ১৫০০ টাকা করে দিত, সেখানে বিজেপি সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করেছে। জুন মাস থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের অর্থ সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে। আগস্ট মাসে পেয়েছিলেন ১ কোটি ৪৬ লক্ষ মহিলা। তবে সেপ্টেম্বরে আরও ১০ লক্ষ বাড়িয়ে তা করা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লক্ষ। কিন্তু তাও অনেকের আবেদন এখনও আন্ডার প্রসেস বা ভেরিফিকেশন পর্যায়ে রয়েছে। ফলে অন্নপূর্ণা যোজনার এক টাকাও তারা এখনও পাননি। সেই কারণেই এবার বিধায়কের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভে নামলেন তারা। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাতে তাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে রাজ্য সরকারকে।
বিক্ষোভকারী এক মহিলার কথায়, “আমি জুন মাসেই অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এক টাকাও আমার অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। আমার কাঁচা ঘর। দিনে আনা দিন খাওয়া অবস্থা। তাও আমি এই প্রকল্পের সুবিধা পাইনি। অথচ আমার পাড়ায় এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের দোতলা ঘর, তারা দিব্যি প্রতি মাসে অন্নপূর্ণা যোজনা পেয়ে আসছেন। বিধায়ককে অবিলম্বে এ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নাহলে আমরা আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেব।”
আরও পড়ুন: অক্টোবর থেকেই যুবশক্তির আবেদন! জোগাড় করে রাখুন এই ৮টি ডকুমেন্ট
তবে এদিন মহিলাদের এই বিক্ষোভের জেরে উদয়নারায়ণপুর এবং তৎসংলগ্ন এলাকার নিত্যযাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এমনকি উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বর্তমানে সেমিস্টার পরীক্ষা চলছে। যার কারণে বহু পরীক্ষার্থী আটকে পড়েন। অবরোধের খবর পেয়েই উদয়নারায়ণপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে মহিলারা পুলিশের কথা তোয়াক্কা না করেই নিজেদের কর্মসূচি চালিয়ে যান। পরে স্থানীয় ব্লক থেকে এক সরকারি আধিকারিক এসে পুলিশ এবং তাঁর মধ্যস্থতার মাধ্যমে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর অবরোধ ওঠে।