আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গাড়ি চালকদের জন্য হতে চলেছে বড়সড় নিয়ম বদল। আগামী ১ অক্টোবর থেকে গাড়ির ক্ষেত্রে শুরু হচ্ছে বিশেষ নজরদারি। নিয়ম না মানলে গুনতে হতে পারে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনীয় নথি বৈধ না থাকলে পেট্রোল পাম্প থেকেও জ্বালানি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে পারেন গাড়ির মালিকরা।
কোন নথির কথা বলা হচ্ছে?
এখানে মূল বিষয় হল পলিউশন আন্ডার কনট্রোল বা PUC Certificate। এই শংসাপত্রের মাধ্যমে দেখা হয়, কোনও গাড়ির নির্গত ধোঁয়া নির্ধারিত দূষণমাত্রার মধ্যে রয়েছে কি না। দিল্লি সরকার ১ অক্টোবর থেকে বৈধ PUC না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, গাড়ির প্রথম রেজিস্ট্রেশনের এক বছর পর থেকে বৈধ PUC রাখা বাধ্যতামূলক। প্রয়োজন হলে আধিকারিকের কাছে এই শংসাপত্র দেখাতেও হতে পারে।
PUC না থাকলে কত টাকা জরিমানা?
বৈধ PUC ছাড়া গাড়ি চালাতে গিয়ে ধরা পড়লে বর্তমান আইনি ব্যবস্থার অধীনে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। দিল্লি সরকার ১ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম আরও জোরদার করতে চলেছে। এই প্রসঙ্গে একটি বিষয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া জরুরি। ১০ হাজার টাকার জরিমানা এবং পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি না পাওয়া দুটি আলাদা এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা। অর্থাৎ বৈধ PUC না থাকলে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে সরাসরি ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে, এমনটা কিন্তু নয়।
PUC না থাকলে জ্বালানি কেন মিলবে না?
দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া পদক্ষেপ হিসেবে ‘No PUC, No Fuel’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হচ্ছে। CAQM-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে সমগ্র NCR-এ বৈধ PUC সার্টিফিকেট দেখানোর পরেই জ্বালানি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পেট্রোল পাম্পগুলিতে নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ-সহ প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়ির PUC স্ট্যাটাস যাচাই করা হবে।
আরও পড়ুন: ভারতে জঙ্গি হামলা, টাকার মূল্যপতন…! আজকের সেরা ১০ খবর (২৯ সেপ্টেম্বর)
অর্থাৎ দিল্লি-NCR-এ গাড়ি নিয়ে বেরোনোর আগে PUC-এর মেয়াদ বৈধ রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া জরুরি। বৈধ শংসাপত্র না থাকলে একদিকে আইনি ব্যবস্থার মুখে পড়তে হতে পারে, অন্যদিকে জ্বালানি পেতেও সমস্যা হতে পারে। এই PUC সংক্রান্ত নিয়ম মূলত পেট্রোল, ডিজেল এবং CNG-চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৈদ্যুতিক গাড়ি বা EV-এর ক্ষেত্রে এই PUC সার্টিফিকেট দেখানোর প্রয়োজন নেই। দিল্লি সরকার একইসঙ্গে প্রযুক্তির সাহায্যে PUC কেন্দ্রগুলির মনিটরিং এবং কাজের পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছে।