প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বড় দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করে পাঁচ বছর আগের এক ভয়ংকর সত্য প্রকাশ্যে আনলেন তিনি। ২০২১ সালে নন্দীগ্রাম এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুর, পরপর দুই বিধানসভা ভোটে, দুই কেন্দ্রেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যদিও প্রচারে কোনো খামতি ছিল না মমতার, এমনকি ২০২১ সালে তিনি প্লাস্টার করা ভাঙা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই নির্বাচনী প্রচার সেরেছিলেন। কিন্তু এবার বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari Attacks Mamata)। তাঁর দাবি, মমতার সেই পায়ে নাকি কোনও ফ্র্যাকচারই ছিল না!
নন্দীগ্রাম ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা শুভেন্দুর
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল, শুক্রবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরুলিয়ার প্রচারসভায় দাঁড়িয়ে শুরুতেই তিনি ব্যাখ্যা করেন কেন ভবনীপুরের আসন রেখে নন্দীগ্রামের আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “বিচলিত হবেন না। আপনাদের শুভেন্দু গতকাল যা ছিল, আজও তাই আছে, আগামিকালও তাই থাকবে। আমি যদি ভবানীপুর ছেড়ে দিতাম, মানুষ যাঁকে (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বিতাড়িত করেছিল, সে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়ে যেত।” এরপরই তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের আঘাত নিয়েও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনলেন।
২০২১-এ নন্দীগ্রামে পা ভেঙেছিল মমতার
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন প্রচারের সময় নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পায়ে ফ্র্যাকচার হয়েছিল তাঁর। সেইসময় পায়ে প্লাস্টার নিয়েই হুইলচেয়ারে প্রচার সেরেছিলেন মমতা। প্রচারের মঞ্চ থেকে ফুটবল ছুড়ে স্লোগান তুলেছিলেন, ‘ভাঙা পায়েই খেলা হবে’। কিন্তু দাবি করা হচ্ছে আদতে সেই পা নাকি ভাঙ্গা ছিল না। ঘটনার পাঁচ বছর পর সেই প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট দাবি, সেদিন বিরুলিয়ার ঘটনায় মমতার পায়ে আদৌ কোনও ফ্র্যাকচারই হয়নি। সামান্য চোট লেগেছিল মাত্র। কিন্তু, পা ভাঙার নাম করে পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিলেন মমতা। এমনকি তাঁর কাছে নাকি প্রমাণও আছে।
আরও পড়ুন: স্কুলের উঠোনেই ফলছে মিড ডে মিলের সবজি, কর্মশিক্ষা ক্লাসে কৃষিকাজ শিখছে পড়ুয়ারা
মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি শুভেন্দুর
শুক্রবার নন্দীগ্রামের প্রচার মন্ত্র থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, “আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করি না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর আমি পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আমি ওখানকার সভাপতি, ভবানীপুরের মধ্যে পড়ে। এক্স-রে প্লেট তো রোগী পেয়ে যায় কিন্তু ডাক্তারের কাছে থাকে রিপোর্টটা। সেদিন আপনাদের বদনাম করে দিয়েছিল না? আসলে লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগেছিল ঠিকই কিন্তু দরজাটা ফিরে এসে তাঁর একটু পায়ে লেগেছিল। এদিকে তিনি পা ভেঙেছে বলে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরেছিল। আমার কাছে ওই কাগজটা রয়েছে। ওঁর ডাক্তাররা লিখে দিয়েছে নো ফ্র্যাকচার। যেদিন দরকার হবে আমি চ্যালেঞ্জ করলে দেখিয়ে দেব। আমি এখন পুলিশমন্ত্রীও বটে, সেদিন দেখিয়ে দেব, গোটা বিরুলিয়া ও নন্দীগ্রামকে কীভাবে অপমান করেছিল।”