প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূলকে ভুলে এবার বিজেপির হয়ে রাজ্যসভায় নাম লেখালেন টলি নায়িকা কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। রবিবার কেন্দ্রীয় বিজেপির তরফে প্রকাশিত রাজ্যসভা ভোটের প্রার্থী তালিকায় উঠে এসেছিল তাঁর নাম। আর তারপরেই একাধিক বিতর্ক শুরু হয়েছে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে ঘিরে। আর এই বিতর্কের মাঝে অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি (Koel Mallick Joins BJP)। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিলেন তিনি। অভিনেত্রীর দাবি, “আগামিদিনে মানুষের জন্য কিছু করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।”
বিজেপির রাজ্যসভার আসনে কোয়েল
সকলকে চমকে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোয়েল মল্লিককে মমতা ব্যানার্জি রাজ্যসভার প্রার্থী করেছিলেন। সেই সময় রাজনীতির ময়দানে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। কিন্তু ২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল হেরে যেতেই, একাধিক রাজ্যসভার সাংসদদের মতোই মমতার হাত ছেড়ে দেন কোয়েল। শেষে জল্পনা করা হচ্ছিল যে তিনি হয়তো এবার বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। আর সেটাই এবার সত্যি হল। গতকাল, রবিবার, বিজেপির তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয় যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার আসনে উপনির্বাচনে গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হচ্ছেন রুক্মিণী মল্লিক, অর্থাৎ অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। অন্যদিকে আজ সোমবার আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগদান করলেন বিজেপিতে।
বিজেপিতে যোগ কোয়েলের
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ সোমবার, রাজ্যসভার সাংসদ পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে টলি অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের। তাই তার আগেই বিজেপিতে যোগদান করলেন অভিনেত্রী। এদিন তিনি জানান, “আপার হাউসের সদস্য হতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। এটা একটা অনেক বড় দায়িত্ব। দেশের মানুষের কল্যাণ এবং সেবা করার যে ধর্ম আমি সব সময়ে পালন করে থাকি, একটা প্ল্যাটফর্ম পেলে স্বাভাবিক ভাবে ক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায়। সেই সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশাসন সামলেছেন। তাঁর কাজ ও মুখ্যমন্ত্রীর কাজকে ভাল লাগায় আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজ্য বিজেপি প্রধান কার্যালয়, ৬ মুরলিধর সেন লেনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা শ্রীমতি @shashikisoch https://t.co/ga8ZNHHR6t
— BJP West Bengal (@BJP4Bengal) October 5, 2026
আরও পড়ুন: ক্লাসের মাঝেই বাজছে আজান! নামাজের জন্য স্কুলে আলাদা ঘর, শোরগোল হাবড়ায়
তৃণমূলকে নিয়ে কী বললেন কোয়েল?
কোয়েল মল্লিক এদিন আরও জানান যে, “আমাদের বাচ্চারা যখন ভালো পড়াশোনা করে বাইরে চলে যায়, বাইরেই থেকে যায়, মনে হয় এরা এখানে কেন থাকছে না। সে সব ক্ষেত্রে আমি যদি কিছু করতে পারি, নিজেকে ধন্য মনে করব। আমি চাই বাংলার প্রতিটা মানুষ আনন্দে থাকুক, কাজের সুযোগ বাড়ুক।’ তৃণমূলকে নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। কোয়েল বলেন, ‘দু’টো ভিন্ন মতের দল। দেখুন প্রতিটা দল তাদের নিজের মতো করে ভালো করার চেষ্টা করে। আমার সব থেকে বড় ধর্ম মনুষ্যত্ব। আমার কারও উপরে রাগ নেই। আমার মনে হয়, যারা অন্যকে ছোট করে, অপমান করে মানসিক আরাম পায়, তা একটা ক্ষোভ থেকে বেরোয়। তাদের মানসিক সুস্থতা কামনা করি।”