অনন্যা সরকার, কলকাতা: ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার (Smit Machchhar) একটি বড় বিপর্যয়ের মুখ থেকে রক্ষা করছেন ১৮০-এর অধিক প্রাণ। সম্প্রতি দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে স্মিত মাচ্ছারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো ওমানি বংশোদ্ভূত সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে তদন্তে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার পরিকল্পনা করেছিল। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে, প্রথমে স্মিতকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর, ইসরায়েলি বিমানবন্দরের অন্য একটি বিমান বা কোনো বড় ভবনের সাথে পুরো বিমানটিকে ক্র্যাশ করার পরিকল্পনা ছিল। এমনটা ঘটলে, বিমানে থাকা প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছাড়াও আরও কত মানুষের প্রাণহানি হতে পারতো, তা বলাই বাহুল্য
তদন্তে কী কী তথ্য উঠে এসেছে?
হামাম আল-হাম্মামি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, এয়ারলাইনে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি এই হামলার ছক কষে রেখেছিলেন। তিনি ইসরায়েলে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে এমন এয়ারলাইনগুলো নিয়ে গবেষণা করেন, যাতে তিনি সহজেই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। হাম্মামির উদ্দেশ্য ছিল ককপিটের ভেতরে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে হত্যা করে বিমানটির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া। এরপর তিনি তেল আবিবের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিল্ডিং, রানওয়েতে পার্ক করা বিমানে, অথবা শহরের কোনও একটি আকাশচুম্বী ভবনের সাথে বিমানটির সংঘর্ষ করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
তবে এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য তার কাছে ‘প্ল্যান বি’-ও প্রস্তুত ছিল। সাম্প্রতিক রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, যদি সে ইসরায়েলি আকাশসীমায় পৌঁছাতে না পারত, তবে জর্ডনে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিমানটি ক্র্যাশ করার একটি বিকল্প পরিকল্পনাও তার ছিল। এছাড়াও, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ফ্লাইটের সহ-পাইলট জানিয়েছেন যে, সে জুলাই মাসে এই আত্মঘাতী হামলাটি চালানোর পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু একজন ক্রু সদস্যের সাথে তার বন্ধুত্ব হয়ে যায়। ফলে, সে এক উভয়সংকটে পড়ে এবং শেষ মুহূর্তে তার পরিকল্পনা স্থগিত করে।
আরও পড়ুন: মানুষ নয়, অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ছাগল, ‘পারেও বাংলাদেশ!’
একটি ইতালীয় সংবাদপত্রের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হামাম আল-হাম্মামি এই বিপজ্জনক পরিকল্পনাটি এত দ্রুত কার্যকর করেছিল যে, কোনও যুদ্ধবিমানও তা প্রতিহত করতে পারেনি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাম্মামি প্রথমে বিমানে জরুরি অবস্থার জন্য রাখা একটি কুড়ুল (Crash Axe) দিয়ে পাইলট স্মিত মাচ্ছারের মাথা ও হাতে আঘাত করে। এতে স্মিতের হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। স্মিতকে ককপিটের মাটিতে ফেলার পর, হাম্মামি কন্ট্রোল স্টিক ঘুরিয়ে এবং তারপর দুটি ইঞ্জিনই বন্ধ করে বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করে। তবে, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার সাহস সঞ্চয় করে ককপিটের দরজা খুলে ফেলেন। এরপর কিছু যাত্রী ও ক্রু সদস্য ককপিটে প্রবেশ করেন এবং বিমানটি সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
উল্লেখ্য, ইজরায়েলি তদন্তকারী দল অনুসন্ধান পড়ে জানার চেষ্টা করছে যে, হাম্মামি কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নির্দেশে, নাকি নিজের ইচ্ছায় বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিলেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তাজনিত ত্রুটির খবর পাওয়া গেছে হাম্মামি এর আগে ওমান এয়ারে কাজ করতেন বলে জানা গেছে, কিন্তু তার চরমপন্থী মতামতের কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়। তা সত্ত্বেও, আট মাস আগে ফ্লাইদুবাই তাকে নিয়োগ করেছিল।