অনন্যা সরকার, কলকাতা: রবিবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) কলকাতার ভিক্টোরিয়া (Victoria Memorial Hall) চত্বরে চলাচলকারী ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িগুলি (Horse-drawn Carriages) বন্ধ করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। মন্ত্রী জানান যে, সরকার এগুলোর পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত গাড়ির প্রচলন করার পরিকল্পনা করছেন। তবে, সরকারের এই পরিকল্পনায় ক্ষুব্ধ ঘোড়ার গাড়ির মালিকরা। তারা জানাচ্ছেন যে, ঘোড়ার গাড়িগুলি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে তারা প্রতিহত করবেন। শহরে ৫৮টি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রেজিস্টার্ড ঘোড়া এবং ২৯টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ঘোড়ার গাড়ি রয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মন্ত্রী
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে এবং কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পশু অধিকার সংস্থা, পেটা ইন্ডিয়া (PETA India) এবং কেপ ফাউন্ডেশনের (CAPE Foundation) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁদের সাথে আলাপচারিতার পর মন্ত্রী জানান যে, কলকাতায় ব্যাটারি-চালিত গাড়ি আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। যেভাবে গাড়ির মালিকরা ঘোড়াদের দৌড়াতে বাধ্য করেন, তাতে তাদের খুব কষ্ট হয়। মন্ত্রী মন্তব্য করেন “পায়ে শিকল বেঁধে কাজ করতে বাধ্য হলে আমার কেমন লাগবে? আমরা চাই না ঘোড়ার গাড়ি আনন্দের জন্য ব্যবহার করা হোক।”
অগ্নিমিত্রা জানান, তাঁর পেটা এবং ঘোড়ার গাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এবছর থেকেই শহরে ধীরে ধীরে ব্যাটারিচালিত গাড়ি চলাচল শুরু হতে পারে। অনেকদিন ধরেই পেটা ইন্ডিয়া ও কেপ ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থাগুলি ঘোড়ার দুর্বল স্বাস্থ্যের কথা উল্লেখ করে কলকাতায় চলাচলকারী ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করার জন্য প্রচার চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক বৈঠকে নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ঘোষণা করেন যে, গাড়ির মালিকদের দেখানোর জন্য সরকার একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসাবে পাঁচটি ব্যাটারি চালিত গাড়ি কিনবে, যাতে তাদের বোঝানো যায় যে, সেগুলি চালানো কতটা সহজ এবং অর্থনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক।
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে পেটা ইন্ডিয়ার পলিসি অ্যাসোসিয়েট চুমকি দত্ত বলেন, হেরিটেজ স্টাইলের এই ইলেকট্রিক গাড়িগুলো ঘোড়া ও মানুষ উভয়েরই উপকারে আসবে। পেটার এক কর্মকর্তা জানান, মুম্বাইয়ে এই ইলেকট্রিক গাড়ি চালু হয়েছে এবং এর ফলে প্রাক্তন ঘোড়ার গাড়ির মালিকদের আয়ও বেড়েছে। কেপ ফাউন্ডেশনের ম্যানেজিং ট্রাস্টি রাধিকা বোস বলেন, এই পরিবর্তনের পর ঘোড়াগুলোকে স্যাংচুয়ারিতে রাখা হবে।