সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জ্ঞানেশ কুমার বিরোধী আন্দোলনে তোলপাড় গোটা দেশ। এর আগে যন্তর মন্তরে কর্মসূচির ডাক দিয়ে সেদিনই ফ্লাইট থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন ককরোচ নেতা অভিজিৎ দীপকে (Abhijeet Dipke), সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা। তবে শুক্রবার বিকালে ফের দিল্লির কনট প্লেসে ‘তিরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন সিজেপি প্রধান। সেই সূত্রে আগে থেকেই তৎপর রাজধানীর পুলিশ। শুক্রবার দিল্লিতে ৩২ হাজার পুলিশ এবং আধা সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলেই খবর। এমনকি কর্মসূচির আগেই গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ।
দিল্লির কর্মসূচি নিয়ে তৎপর প্রশাসন
ককরোচ জনতা পার্টির তরফ থেকে শুক্রবার বিকালে দিল্লির কনট প্লেসে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে তা শুরু হওয়ার অনেক আগেই নিউ দিল্লির মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ১৬ এবং ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এছাড়া কনট প্লেস চত্বরে প্রায় ৬০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও থাকবে বলে খবর। উল্লেখ্য, এর আগে যন্তর মন্তরে ৫০০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে এবার নিরাপত্তা বাড়াতে আরও তৎপর প্রশাসন।
এদিকে এই কর্মসূচি শুরুর আগেই যন্তর মন্তরের স্মৃতি ফিরতে চলেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ দীপকে। ‘তেরঙ্গা ওড়াও’ কর্মসূচির আগেই আটক করা হতে পারে তাঁকে। সিজেপি প্রধান জানিয়েছেন, নম্বর প্লেটবিহীন গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র আধিকারিকরা তাঁর বাড়ির উপরেও চালাচ্ছে নজরদারি। তাঁর কথায়, “দেশের তিরঙ্গা ওড়ানোর জন্য যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, তাহলে কোনও অসুবিধা নেই।”
আরও পড়ুন: রাতে বিজপুর, নোয়াপাড়ায় সিপিএমের বইয়ের স্টলে ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ! অভিযোগ বামেদের
শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সিজেপির এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা। তবে দিল্লি পুলিশের তরফে আগে থেকেই এই কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এদিকে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও সেখানে প্রবেশ করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা। তাঁদের ৫ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। এখন দেখার, সিজেপির এই কর্মসূচি আদৌ সফল হয় কিনা।