সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাঝ আকাশে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এক বিমানযাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন বাঙালি চিকিৎসক। প্যারিস থেকে দিল্লি হয়ে কলকাতাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) A-142 ফ্লাইটে মধ্যরাতে হঠাৎই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই যাত্রী। এরপর ক্রু মেম্বারদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ প্রায় ৪ ঘণ্টা লড়াই চালিয়ে যাত্রীকে প্রাণে বাঁচালেন।
অসুস্থ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন বাঙালি ডাক্তার
ঘটনাটি ঘটেছিল গতকাল রাতে। প্যারিস থেকে কলকাতাগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট যখন মাঝ আকাশে, তখন হঠাৎ করে প্লেনের মধ্যে জরুরী ঘোষণা করা হয় যে “ফ্লাইটে কি কোনও চিকিৎসক আছেন? এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।” ঘোষণা শুনেই এক মুহূর্ত দেরি করেননি শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ওই ডাক্তার। সিট ছেড়ে উঠে গিয়ে তিনি দেখেন যে মাঝবয়সী এক যাত্রী মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছেন। তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন দ্রুত কমছে, হার্ট রেট ও রক্তচাপ পতন হয়েছে, এমনকি পালস অত্যন্ত ক্ষীণ।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ বিমান কর্মীদের সহায়তায় সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দেওয়া শুরু করেন ওই চিকিৎসক। অ্যাম্বু ব্যাগ মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অজ্ঞান থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তির জিভের নিচে সরব্রিটেট দেওয়া হয় বলেও খবর। রোগীর জ্ঞান একবার ফিরে আসলেও বারবার ভাইটালস ফল করতে থাকে। তবে কেবিন ক্রুদের সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতি ৫ মিনিট অন্তর রোগীর শারীরিক অবস্থা মনিটর করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলেই পুনরায় সিপিআর দিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। মাঝ আকাশে অন্তত ৪ ঘণ্টার লাগাতার লড়াইয়ের জেরে রোগীর জ্ঞান ফেরে এবং তাঁকে একটি অ্যাসপিরিন দেওয়া সম্ভব হয়।
ফেসবুক পোস্টে ওই ডাক্তার লিখেছেন, “প্লেনের সব ক্রু ক্যাপ্টেন এবং সহযাত্রীগণ আমাকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলেন। ভয় পাচ্ছি, আমাদের কিছু হলে এইভাবে কে বাঁচাবে? আমি আমার কর্তব্য করেছি। সারা রাত জেগে নিজে কিছু করতে পেরে বেশ আনন্দিত হচ্ছিলাম। কীভাবে ওই জলন্ধরবাসী স্যামসনের জীবনে ছোট্ট অবদান রেখে এলাম। ধন্যবাদ ভগবানকে। আমার ডাক্তারি জীবনে আরও মুমূর্ষ রোগীদের বাঁচিয়ে বাড়ির নিকট জনের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই মহাযজ্ঞে আপনাদের আশীর্বাদ এবং ভালোবাসা পাথেয় হোক।”