সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ EPFO-র আওতায় প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) বেতনসীমা ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা করার ফলে আরও বেশি কর্মচারী এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিমের (EPS) আওতায় আসতে পারেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য কর্মীদের নিয়োগকর্তার অবদানের একটি অংশ PF-এর পরিবর্তে পেনশন অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর ফলে অবসরের সময় এককালীন PF-এর পরিমাণ কমতে পারে, তবে যোগ্য কর্মীরা ৫৮ বছর বয়সের পরেও আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
বদলে গেল EPFO- র নিয়ম
এই পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে এবং কর্মীরা ইচ্ছামতো EPS-এর আওতা থেকে নিজেদের বাদ দিতে পারবেন না। বিশেষত, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরের পর নিযুক্ত এবং আগে EPS-এর সদস্য না হওয়া, মাসিক মূল বেতন ১৫,০০১ থেকে ২৫,০০০ টাকা এমন কর্মীরা নতুন নিয়মের আওতায় আসতে পারেন। তবে পেনশনের পরিমাণ ও PF-এর চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে প্রযোজ্য নিয়ম এবং কর্মীর অবদানের ওপর।
মাসিক পেনশনের হিসাব করুন এভাবে
কোনও কর্মচারী ২৫ বছর চাকরি করলে, নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত ২ বছরের বোনাস-সহ পেনশন গণনার ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ ২৭ বছর ধরা হতে পারে। নির্দিষ্ট বেতন ও পেনশনযোগ্য পরিষেবার ভিত্তিতে মাসিক পেনশন প্রায় ৯,৬৪৩ টাকা হতে পারে। EPS পেনশনের জন্য সাধারণত ন্যূনতম ১০ বছরের পেনশনযোগ্য পরিষেবা প্রয়োজন। কর্মচারীর মৃত্যুর পর যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী পারিবারিক পেনশন পান এবং নির্দিষ্ট শর্তে সন্তানরাও ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশনের সুবিধা পেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ হলদিয়া থেকে দুর্গাপুর যাওয়ার রাত্রিকালীন বাস, জানুন রুট ও সময়সূচি
৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জীবনবিমার সুবিধা মিলবে
EPFO-র সদস্য কর্মীরা EDLI প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে জীবনবিমার সুবিধা পান। কর্মরত অবস্থায় সদস্যের মৃত্যু হলে, প্রযোজ্য শর্ত অনুযায়ী তাঁর পরিবার ২.৫ লক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমার অর্থ পেতে পারে। তবে নিয়োগকর্তার অবদানের যে অংশ EPS-এ জমা হয়, তা সাধারণত এককালীন PF হিসেবে তোলা বা অন্যত্র বিনিয়োগ করা যায় না; নিয়ম অনুযায়ী তা মাসিক পেনশন নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।