অনন্যা সরকার, উত্তরপ্রদেশ: কথায় বলে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা দিয়ে যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। লখনউয়ের বাসিন্দা তেজেশ বৈশ্যের গল্পটি এর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (Success Story of Tejes Vaishya)। তাঁর এই কাহিনি অনুপ্রেরণা যোগায় বহু মানুষকে। ২৬ বছর বয়সী তেজেশ বৈশ্য লখনউয়ের সদর বাজারের একটি ছোট মিষ্টির দোকান থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ইন্ডাস্ট্রিতে ২.৫ কোটি টাকার প্যাকেজের চাকরি নিয়ে দুবাইয়ে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর বাবা, অশোক কুমার বৈশ্য, ছোট্ট একটি দোকানে মিষ্টি বিক্রি করে সংসার চালালেও, ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনো দিনও আপস করেননি। তেজেশের এই সাফল্য এখন অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আসুন তাঁর সংগ্রামের কাহিনীটি বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
আইআইটি কানপুরে সাফল্য থেকে দুবাইতে আড়াই কোটি টাকার প্যাকেজ
ছেলেবেলা থেকেই মেধাবী ছাত্র, তেজেশ আইআইটি কানপুর (IIT Kanpur) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং ৯.১৪ সিপিআই (CPI) নিয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। তিনি জেইই (JEE)-তে ৯৯.৯ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছিলেন এবং উত্তরপ্রদেশ স্টেট এন্ট্রান্স এক্সামে (UPSEE) সর্বভারতীয় পর্যায়ে নবম স্থান অধিকার করেছিলেন। পড়াশোনা চলাকালীন সময় তিনি ‘আলফাগ্রেপ মেরিট স্কলারশিপ’ (AlphaGrep Merit Scholarship), ‘পিডি মেরিট স্কলারশিপ’ (PD Merit Scholarship) এবং‘সি৩আইহাব ইউজি ফেলোশিপ’ (C3iHub UG Fellowship)-এর মতো বৃত্তিগুলি লাভ করেন।
তবে, কলেজ জীবনে এসে তিনি কেবল পড়াশোনার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি, গ্র্যাজুয়েশন শেষ হওয়ার আগেই তিনি একাধিক ইন্টার্নশিপে যোগদান করেন এবং স্টাইপেন্ড বাবদ ২ লক্ষ টাকারও বেশি আয় করেন। তাঁর প্রথম প্রজেক্ট ছিল একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা, যা সফটওয়্যার ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাঁর ক্যারিয়ারের একটি বড় মাইলফলক ছিল।
আরও পড়ুন:
আইআইটি থেকে স্নাতক পাস করার পর তেজেশ বেঙ্গালুরুতে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর একে একে তিনি টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস (Texas Instruments), সিকিউরোনিক্স (Securonix), স্কয়ারপয়েন্ট ক্যাপিটাল (Squarepoint Capital) এবং অ্যাবাকাস ডট এআই (Abacus.AI)-এর মতো কোম্পানিতে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি দুবাইতে একটি আমেরিকান এআই স্টার্টআপের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত আছেন, যেখানে তিনি এআই এজেন্ট, মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন এবং এআই ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে কাজ করছেন।
একাধিক সাম্প্রতিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ (CTC) প্রায় ২.৫ কোটি টাকা। দুবাইতে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও, তিনি প্রতি মাসে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করতে পারেন, যা তিনি এসআইপি (SIP)-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন বলে জানান। তেজেশ তাঁর উপার্জনের একটি বড় অংশ লখনউতে পরিবারের জন্য একটি নতুন বাড়ি তৈরির কাজে ব্যয় করছেন।
তেজেশ জানান, দুবাইয়ের কর্মসংস্কৃতিতে কাজের নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকায় তিনি কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটি সুন্দর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। একটি ছোট মিষ্টির দোকানে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে আইআইটি কানপুরে পড়াশোনা করা এবং শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ের এআই (AI) ফিল্ডে নিজের ছাপ রাখা পর্যন্ত তেজেশের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে সীমিত সম্পদ নিয়েও জীবনে বড় স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব।