আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: তৃণমূল সরকারের আমলে চাকরির নামে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বহু যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ করা হয়নি। উলটে টাকার বিনিময়ে অযোগ্যদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে কম বিতর্ক হয়নি। তবে শাসকদল বদলের পর আর টাকা নয়, দুর্নীতি নয়, মেধাই হবে চাকরি পাওয়ার মূল মন্ত্র, কথা দিলেন রাজ্য সরকার। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার নবান্নে (Nabanna) সমবায় দপ্তরের ১৪৯ জন পরিদর্শকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন তিনি।
নিয়োগ নিয়ে কী বক্তব্য মুখ্যমন্ত্রীর?
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এতদিন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ওবিসি সংক্রান্ত জটিলতা। তৃণমূল সরকারের আমলে ওবিসি শংসাপত্র ও তালিকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। ২০১০ সালের পর ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ৭৭টি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। এর জেরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াও আটকে যায়। পূর্বতন সরকারের আমলে এই সংক্রান্ত মামলা সুপ্রিম কোর্ট অবধি গড়ায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই মামলা প্রত্যাহার করে নিয়োগের জট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিগত সরকার ওবিসি জট পাকিয়েছিল। আমরা জট কাটাচ্ছি।”
সমবায় ক্ষেত্রেও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরির কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে সমবায় দপ্তরে কাজের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে এবং মেধার ভিত্তিতেই সেই সুযোগ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই ১৪৯ জন সমবায় সমিতির পরিদর্শক নিয়োগ পেয়েছেন। পাশাপাশি আগামী দিনে ২০০-র বেশি কো-অপারেটিভ ইন্সপেক্টর নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এই অতিরিক্ত নিয়োগে ঠিক কতজনকে কোন সময়ের মধ্যে নিয়োগ করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনও জানানো হয়নি।
এদিকে, সরকার বদলের পর বিভিন্ন দপ্তরের শূন্যপদ পূরণের উপরেও সরকারের তরফে জোর দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশের প্রায় ৬ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে মোট ১২ হাজার পুলিশ নিয়োগের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ যাতে উৎসবের মরশুমেও থমকে না থাকে, সেই লক্ষ্যেই নিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিচ্ছে সরকার। মানুষ বারবার সরকারের কর্মতৎপরতার পরিচয় পেয়েছে।
আরও পড়ুন: লন্ডনের টেমসের আদলে গঙ্গাপাড়ে অর্থনৈতিক হাব, হকারদের জন্য বিরাট উদ্যোগ পুরমন্ত্রীর
নতুন নিয়োগের ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, তেমনই উপকৃত হবে রাজ্যের সমবায় ক্ষেত্রও। বিভিন্ন সমবায় সমিতির কাজকর্ম পরিচালনা, প্রশাসনিক নজরদারি এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা আরও ভালোভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই পরিদর্শকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আগামী দিনে আরও নিয়োগ হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর চাকরিপ্রার্থীদের।