সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের সর্বোচ্চ আদালতে (Supreme Court) ঝটকা খেল মমতার কালীঘাট তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ ১০ জন বিধায়কের পদ বাতিলের মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। মমতা তৃণমূলের তরফ থেকে এই মামলা করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এমনকি এই আবেদন হাইকোর্টে করার নির্দেশই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।
মমতা তৃণমূলকে ফের ঝটকা দিল সুপ্রিম কোর্ট
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর একদিকে যেমন বিধায়করা মমতার সঙ্গ ছেড়েছেন, অন্যদিকে লোকসভা এবং রাজ্যসভার সাংসদরাও ছেড়েছেন কালীঘাট। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অন্তত ৬০-র বেশি বিধায়ক নিজেদের বিদ্রোহী ঘোষণা করে তৈরি করেন নব্য তৃণমূল, যারা এখন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে মমতা তৃণমূলে পড়ে রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন বিধায়ক, যাদের দলের নতুন নাম মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভার স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তবে ঋতব্রত, সন্দীপনসহ মোট ১০ জন বিধায়কের পদ খারিজের দাবিতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা তৃণমূল।
এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতির জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে ওঠে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দায়ের করা এই মামলা। তবে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে আবেদনকারীর জন্য কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়াই উপযুক্ত পন্থা হবে। এমনকি দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চে উত্থাপন করতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
আরও পড়ুন: “দীপাবলীর আগেই…” অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা ঢোকার দিনক্ষণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
প্রসঙ্গত, শোভনদেবের পক্ষ থেকে উপস্থিত আইনজীবী জানিয়েছিলেন যে অযোগ্যতার আবেদনগুলি জুলাই মাস থেকে বিচারাধীন রয়েছে, আর বিষয়টি শুনানির জন্য একটি ডিভিশন বেঞ্চ গঠনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর যুক্তি ছিল, এই বিষয়ের একটি অংশ সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের আওতাভুক্ত। তবে আদালত পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে যে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত পন্থা হবে। সূর্যকান্তের কথায়, “আমরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বিষয়টি একটি ডিভিশন বেঞ্চের সামনে উপস্থাপন করার অনুরোধ করছি, যা দ্রুততার সঙ্গেই নিষ্পত্তি হবে।”