অনন্যা সরকার, কলকাতা: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন পাঠ্যক্রম (Class 9 curriculum) ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। ২৯ অক্টোবরের সিবিএসই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণিতে পাঠরত এবং ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে দশম শ্রেণিতে উন্নীত হতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে অনেকগুলি পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যদিও, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে বর্তমানে যারা দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত, তাদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মগুলিই কার্যকর থাকবে।
নবম শ্রেণীর পাঠক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কী কি বদল আনছে সিবিএসসি
সিবিএসই বোর্ড নবম শ্রেণিতে নয়টি বিষয় বাধ্যতামূলক করেছে, এগুলি হল – তিনটি ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত, শিল্প শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান, শারীরিক শিক্ষা ও সুস্থতা এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষা। এছাড়া, ৫৭টি বিষয়ের তালিকা থেকে একটি ঐচ্ছিক বিষয় বেছে নেওয়া যাবে, এই তালিকার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি ভাষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, অঙ্কন, সঙ্গীত, বিজনেস স্টাডি এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন। এর মধ্যে, ঐচ্ছিক ভাষাটি অবশ্যই আগে নির্বাচিত তিনটি ভাষা থেকে ভিন্ন হতে হবে।
সিবিএসসি দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রম থেকে পরিবেশ শিক্ষা বাদ দিলেও, নবম শ্রেণিতে এটি একটি বিষয় হিসেবে থাকছে। তবে, ইন্টারডিসিপ্লিনারি বিষয় হিসেবে ‘ইন্ডিভিজুয়ালস ইন সোসাইটি’ এবং ‘কম্পিউটেশনাল থিংকিং অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বিষয়ক মডিউলগুলো পাঠ্যক্রম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: নোবেলের থেকে তিনগুণ বেশি ! বিজ্ঞানের অস্কার জিতে কত পেলেন বাঙালি অধ্যাপক অশোক সেন?
বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে, শিক্ষার্থীদের হয় স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথবা ২২টি দক্ষতা-ভিত্তিক বিষয়ের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো হল, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, টেকনোলজি, ডেটা সায়েন্স, রিটেইল, ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স, এগ্রিকালচার হেল্থকেয়ার, ডিজাইন থিংকিং ও ইনোভেশন অ্যান্ড অটোমোটিভ।
স্কিল ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে দশম শ্রেণিতে মূল্যায়ন করবে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়, যেসব শিক্ষার্থীরা ৩৩% নম্বর পাবে, তাদের বিদ্যালয় থেকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। অন্যান্য দক্ষতা-ভিত্তিক বিষয়ের ক্ষেত্রে বোর্ড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাপ্ত নম্বর বা গ্রেড বোর্ডের দেওয়া মার্কশিটে উল্লেখ থাকবে ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এনএসকিউএফ (NSQF – National Skills Qualifications Framework)-এর শংসাপত্র পাবে।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার কী কী মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে?
প্রথম ও দ্বিতীয় ভাষা, বিজ্ঞান, গণিত।এবং সামাজিক বিজ্ঞানের জন্য বোর্ড পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক। অতিরিক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শিল্প শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা এবং শারীরিক শিক্ষার মূল্যায়ন পরীক্ষার্থীর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করবে। পাঁচটি বাধ্যতামূলক বিষয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য বোর্ড পরীক্ষা ও ইন্টারনাল অ্যাসেসমেন্ট মিলিয়ে অন্তত ৩৩% নম্বর পাওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ, বোর্ড পরীক্ষায় ৮০-এর মধ্যে ২৪ ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ২০-এর মধ্যে ৯ নম্বর পেলে, তা পাস হিসেবে গণ্য করা হবে।
যদি কোনো শিক্ষার্থী গণিত, বিজ্ঞান বা সামাজিক বিজ্ঞানে অকৃতকার্য হয়, তবে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে একটি ঐচ্ছিক দক্ষতা-ভিত্তিক বিষয়কে তার পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে স্কিল ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ক্ষেত্রে এই সুযোগটি প্রযোজ্য নয়।
এছাড়া, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত তালিকা থেকে অন্তত একটি ভাষা ও চারটি বিষয় নির্বাচন করতে হবে। এই তালিকায় রয়েছে একটি অতিরিক্ত ভাষা, বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, গণিত, সঙ্গীত, অঙ্কন/শিল্পকলা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, ব্যবসায়-সংক্রান্ত বিষয় এবং সর্বোচ্চ দুটি দক্ষতা-ভিত্তিক বিষয়। সিবিএসই জানিয়েছে যে, টেকনোলজি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) – এই বিষয়গুলো একসঙ্গে নির্বাচন করা যাবে না। ছাত্র-ছাত্রীদের বিষয় নির্বাচনের আগে বিদ্যালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করা ও সম্পূর্ণ নির্দেশিকাটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।