অনন্যা সরকার, নয়া দিল্লি: রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের অপব্যবহার রোধ করতে এবং দেশজুড়ে পরিবেশ-বান্ধব জ্বালানির সঠিক বণ্টনের জন্য ভারত সরকার ও IOCL, BPCL এবং HPCL-এর মতো তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি নিয়মে আরও কড়াকড়ি এনেছে। সরকার এবার থেকে ‘ওয়ান হোম, ওয়ান গ্যাস কানেকশন’ (One Home, One Gas Connection) নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করার জন্য উদ্যোগী হয়েছে। এর দরুন এলপিজি (LPG) এবং পিএনজি (PNG) গ্রাহকদের জন্য ৩০ থেকে ৯০ দিন মেয়াদী নতুন প্রোটোকল জারি করা হয়েছে। আসুন এই নতুন নিয়মগুলি সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
‘ওয়ান হোম, ওয়ান গ্যাস কানেকশন’ এর কঠোর নীতি
সরকার ও তেল কোম্পানিগুলো প্রধানত গ্যাস সিলিন্ডারের কালোবাজারি এবং অবৈধভাবে মজুত করে রাখা ঠেকাতে নতুন ও আরও কঠোর নীতি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একই ঠিকানায় বা একই পরিবারের (রেশন কার্ড/পরিবার) নামে একাধিক এলপিজি (LPG) সংযোগের অনুমতি দেওয়া হবে না। অনেক পরিবারে একাধিক সংযোগ থাকার কারণে অবৈধভাবে রিফিলিং এবং সিলিন্ডারের বাণিজ্যিক ব্যবহার করা হচ্ছে বলে প্রায়ই অভিযোগ শোনা যায়। এর মোকাবিলা করার জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি এবং এলপিজি সিলিন্ডার – দুই প্রকারের গ্যাস ব্যবহারকারীদের জন্যই এখন একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ বাড়িতে একটি নতুন পিএনজি সংযোগ চালু করেন, তবে তাকে অবশ্যই আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিজের পুরানো এলপিজি সিলিন্ডার সংযোগটি সারেন্ডার করতে হবে বা সাসপেন্ড করে রাখতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতিতে, পিএনজি সংযোগটি চালু হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এলপিজি সংযোগটি বাতিল করতে হবে অথবা সারেন্ডারের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ওই গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে কর্তৃপক্ষ।
জানিয়ে রাখি, গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর সরকার কিন্তু এই প্রথমবার কড়াকড়ি করছে না, এর আগেও বুকিংয়ের সময়সীমা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। নিয়ম রয়েছে, গ্রাহকরা একটি সিলিন্ডার বুক করার পর পরবর্তী ২৫ দিনের মধ্যে আর রিফিল বুক করতে পারতেন না। ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডার ন্যায্যভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে এবং গ্যাসের ঘাটতি এড়াতে ডেলিভারির মধ্যে ন্যূনতম ৪৫ দিনের ব্যবধান রাখার আরেকটি নিয়ম নিয়েও আলোচনা করা হয়। যদি কোনো গ্রাহক এই নতুন নিয়ম ও সময়সীমা না মানেন, তবে তাকে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা, অর্থাৎ ৯০ দিনের মধ্যে একাধিক বা অবৈধ সংযোগের বিষয়ে জানাতে ব্যর্থ হলে জ্বালানি সংস্থাগুলি সেই ব্যক্তিই গ্যাস সংযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে পারে। এছাড়া, এই নিয়মগুলো লঙ্ঘন করলে সরকারি ভর্তুকি অবিলম্বে স্থগিত করে দেওয়া হবে এবং জরিমানাও করা হতে পারে।
যদি, আপনার বাড়িতে একাধিক গ্যাস সংযোগ থাকে অথবা এলপিজি এবং পিএনজি – উভয় সংযোগই চালু থাকে, তাহলে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করুন।
১.সংযোগ সারেন্ডার বা হস্তান্তর: প্রথমেই কাছের গ্যাস এজেন্সিতে (এইচপি, ইন্ডেন, ভারত গ্যাস) গিয়ে অতিরিক্ত সংযোগটি সারেন্ডার করুন অথবা অন্য ঠিকানায় থাকা কোনো পরিবারের সদস্যের নামে তা হস্তান্তর করে দিন।
২.ই-কেওয়াইসি (eKYC) প্রক্রিয়া: আপনার সংযোগটি যাতে বৈধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে আপনার বর্তমান অ্যাক্টিভ কানেকশনটির সাথে বায়োমেট্রিক/অনলাইন ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করুন।