NEET ক্র্যাক ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করা মেয়ের, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন করবেন পূরণ

অনন্যা সরকার, কলকাতা: স্বপ্ন পূরণের জন্য সবসময় অনেক সম্পদ বা অর্থের দরকার হয় না, প্রয়োজন হয় শুধু দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের। এটাই প্রমাণ করলেন হরিয়ানার এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে আরজু (NEET UG 2026 Success Story of Arzoo)। সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে দাদুকে হারানোর যন্ত্রণা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সেই দিন থেকেই ডাক্তার হবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন। তাঁর এই সংকল্প এতটাই প্রবল ছিল যে, সমস্ত আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকেও হাসিমুখে জয় করেছেন। আরজু ঠেলাগাড়িতে সবজি বিক্রি করে অভাব অনটনের মধ্যেও তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান। আর এবছর তিনি নিট পরীক্ষায় সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) ৬২২৭ অর্জন করেছেন। আসুন তাঁর এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক। 

দাদুকে হারানোর যন্ত্রণা বদলে গেল জেদে

হরিয়ানার জিন্দ জেলার বাসিন্দা আরজু এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, সঠিক চিকিৎসার অভাবে দাদুকে হারানোর ঘটনাই তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। যখন তিনি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তেন, তখন তার দাদু এমন এক রোগে আক্রান্ত হন, যা ডাক্তাররাও নির্ণয় করতে পারেননি। নামী দামি হাসপাতালে চিকিৎসা করেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি তাঁকে। এই ঘটনা তাঁকে এমনভাবে নাড়া দিয়েছিল যে, সেইদিন থেকেই সংকল্প করেন তিনি দক্ষ চিকিৎসক হবেন, যাতে আর কারও সাথে এমন ঘটনা না ঘটে। 

আরও পড়ুন: বাড়ি বাড়ি ঘুরে ভাঙাচোরা কেনা সুনীল হবেন ডাক্তার, NEET-এ মিলল অকল্পনীয় সাফল্য

তবে আরজুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। বাবা সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। অল্প বয়স থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি পারিবারিক দায়িত্বও পালন করতে শুরু করেন তিনি। বাবা যখন ঠেলাগাড়িতে করে সবজি বিক্রি করতে যেতেন, সাথে থাকতেন আরজুও। বাকি সময়টা নিটের প্রস্তুতিতে উৎসর্গ করেন। 

আরজু ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট (NEET)-এর প্রস্তুতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলার ওপর বেশি জোর দেন। প্রতিটি বিষয়ের জন্য আলাদা আলাদা সময় বরাদ্দ করে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। এর পাশাপাশি, প্রচুর মক টেস্ট দিয়ে ও আগের বছরগুলির প্রশ্নপত্র সমাধান করে নিজের ভুলগুলি সংশোধন করতেন। আর তার ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। তিনি এবছর নিট পরীক্ষায় ৬২২৭ সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করেছেন। 

আরও পড়ুন: ৫ বছরে ৫ লক্ষ আয়! পোস্ট অফিসের এই স্কিমে মিলছে মোটা সুদ

আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও, তিনি তাঁর লক্ষ্যের সাথে কখনও আপোস করেননি। তাই দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন আরজু। এখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে একজন ভালো ডাক্তার হয়ে অভাবী মানুষদের সেবা করাই তাঁর লক্ষ্য। যারা বর্তমানে নিট পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের উদ্দেশে আরজু বলেন যে, সফলতার জন্য শুধু দীর্ঘ সময় ধরে পড়াশোনা করাই যথেষ্ট নয়, তার সাথে নিয়মিত অনুশীলন, একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাসও দরকার। এই মানসিকতাই আজ তাঁকে এই অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে। 

Leave a Comment