অনন্যা সরকার, কলকাতা: ককপিটের ভেতরে ওমানি সহ-পাইলট ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ফাটিয়ে দিয়েছিল মাথার খুলি। ফিনকি দিয়ে শরীর থেকে রক্ত বেরতে থাকে। বারংবার আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তবুও, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার (Smit Machchhar) হাল ছাড়েননি। ১৭০ জনেরও বেশি যাত্রী ও ক্রু বহনকারী বিমানটি যখন মাঝ-আকাশে প্রায় ১৮,০০০ ফুট নীচে পড়ে যেতে থাকে, তখন তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন। তার এই প্রচেষ্টার ফলেই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে প্রবেশ করে সহ-পাইলটকে কাবু করতে সমর্থ হন এবং বেঁচে যায় অনেকগুলো প্রাণ। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই-এর ফ্লাইটের সেই ভয়াবহ হামলা সম্পর্কে এখন আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে।
হাড়ের টুকরো মাথার খুলির ভেতরে ঢুকে যায় ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ককপিটে থাকা ‘ক্র্যাশ অ্যাক্স’ দিয়ে স্মিতের মাথায় আঘাত করেছিলেন ওই ওমানি কো-পাইলট। ৩৮ বছরের ভারতীয় পাইলটের মাথার এই আঘাতকে ডাক্তারির ভাষায় বলে ‘ডিপ্রেসড স্কাল ফ্র্যাকচার’। অর্থাৎ, তাঁর মাথার খুলি ভেঙে গেছে এবং হাড়ের একটি অংশ ভেতরে ঢুকে গেছে। এই ধরনের আঘাত অত্যন্ত গুরুতর, কারণ ভাঙা হাড়ের টুকরোটি মস্তিষ্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, সৌদি আরবের ডাক্তাররা তার মাথার খুলি পুনর্গঠনের জন্য অস্ত্রোপচার করেছেন। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে স্থানান্তর করা হয়। তিনি বর্তমানে আবুধাবির একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। মাথায় গভীর আঘাত ছাড়াও তার হাতে, পায়ে, বুক ও পেটের ওপরের অংশেও আঘাত রয়েছে। তবে, বর্তমানে তাঁর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা।
আরও পড়ুন: মহালয়ার আকাশে উড়বে ৩০০০ ড্রোন, বিজয়া সম্মিলনী নিয়েও বড় উদ্যোগ রাজ্যের
প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। যাত্রার প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর বিমানটি হঠাৎ করেই নীচের দিকে নামতে শুরু করে, প্রায় ১৮,০০০ ফুট নীচে নেমে যায়। প্রথমে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে একটি জরুরি সংকেত পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ‘স্কয়াক ৭৫০০’ (Squawk 7500) কোডটি পাঠানো হয়, যা বিমান ‘হাইজ্যাকিং’-এর সংকেত। পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, ওমানের কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি একটি ধারালো বস্তু দিয়ে স্মিটের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন এবং ৯/১১-এর মতো বিমানটি ক্র্যাশ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্মিত ও কিছু যাত্রীর সাহসিকতার জোরে ব্যর্থ হয়ে যায় সেই প্রচেষ্টা হয়। ব্যাকআপ পাইলটরা বিমানটিকে উড়িয়ে এনে সৌদি আরবের তাবুকের বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান।