গ্রামে প্রথমবার, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকাতেই দুর্গাপুজোর আয়োজন ঘাটালের মহিলাদের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: গ্রামবাসীদের কাছে বদলে গেল দুর্গাপুজোর অর্থ। এতদিন রঘুনাথচকের বাসিন্দাদের কাছে দুর্গাপুজোর মানেই ছিল অন্য গ্রামে গিয়ে ঠাকুর দেখা। নিজের গ্রামে পুজোর মণ্ডপ, দুর্গা প্রতিমা কিংবা ঢাকের বাদ্যি শোনার সুযোগ ছিল না তাঁদের। উৎসবের দিনগুলিতে সেই না থাকার অভাবটা আরও বেশি করে ঘিরে ধরত তাঁদের। তবে এবার এই আক্ষেপ বদলে যেতে চলেছে আনন্দে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল (Ghatal) পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনাথচক (Raghunathchak) গ্রামে এই প্রথম দুর্গাপুজোর আয়োজন হতে চলেছে। আর এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন গ্রামের মহিলারাই। তাঁদের হাত ধরে তৈরি হয়েছে ‘রঘুনাথচক মহামায়া দুর্গোৎসব মহিলা কমিটি’। ইতিমধ্যেই খুঁটি পুজোর মাধ্যমে শুরু হয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। নিজেদের গ্রামে প্রথমবার মা দুর্গার আগমন ঘিরে এখন থেকেই উৎসাহ দেখা দিয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।

মহিলাদের উদ্যোগেই পুজোর প্রস্তুতি

দুর্গাপুজোর জন্য যে সমস্ত জিনিস গুলি দরকার তার মধ্যে অন্যতম হলো অর্থসংস্থান। পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে এই টাকা পয়সার বিষয়টিও নিজেদের মতো করে সামলাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পান এমন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন মহিলা। তাঁরা নিজেদের প্রাপ্ত অর্থ থেকে প্রত্যেকে ৩ হাজার টাকা করে পুজোর তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে পুজোর জন্য চাঁদা সংগ্রহের কাজও চলছে। অর্থ জোগাড় থেকে শুরু করে পুজোর প্রস্তুতি, সবকিছুতেই মহিলাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবার নজর কেড়েছে। প্রথমবার নিজেদের এলাকায় দুর্গাপুজো করার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তাঁদের এই উদ্যোগ, এমনটাই জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

মহিলারা উদ্যোগ নিলেও পুজোর আয়োজনকে ঘিরে গ্রামের পুরুষরাও কিন্তু মোটেই পিছিয়ে নেই। মণ্ডপ তৈরি, আলোর ব্যবস্থা এবং পুজোর অন্যান্য কাজেও তাঁরা সহযোগিতা করছেন। ফলে গ্রামের প্রথম দুর্গা পুজো ধীরে ধীরে গোটা গ্রামের কাছে প্রথম স্বাধীন উৎসব হয়ে উঠছে। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে এই উদ্যোগে সামিল হচ্ছেন। প্রথমবারের পুজোকে সুন্দর করে তুলতে তাই রঘুনাথচকের বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলাদা উৎসাহ।

আরও পড়ুন: ভয়ংকর ঘটনা হাবড়ায়! থানার ব্যারাক থেকে উদ্ধার ASI বিশ্বনাথ সেনের ঝুলন্ত দেহ

উদ্যোক্তাদের কথায়, বছরের পর বছর ধরে নিজেদের গ্রামে দুর্গাপুজো না হওয়ার একটা আক্ষেপ সবসময়ও ছিল। এবার সেই আক্ষেপকে দূরে সরিয়ে সকলকে নিয়ে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তাঁরা মনে করেন, এবারের এই আয়োজন আগামী দিনে রঘুনাথচকের নিজস্ব ঐতিহ্যের রূপ নেবে। প্রথম পুজোকে ঘিরে তাই গ্রামের মানুষের আবেগও কম নয়। যে গ্রামে এতদিন দুর্গাপুজো দেখতে অন্যত্র যেতে হত, সেখানেই এবার তৈরি হচ্ছে নিজেদের পুজোর মণ্ডপ। এবার তাঁদের পূজো দেখতে আসবে অন্য গ্রামবাসীরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর রঘুনাথচকের মানুষের মুখে তাই এখন একটাই কথা, “এবার মা আসছেন আমাদের গ্রামেও।”

Leave a Comment