আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: প্রচলিত আছে, দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরেই নাকি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়! এই অপবাদ মুছতে এবং সুরক্ষা দ্বিগুণ করতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশি (Police) সাহায্য পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনায় পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) চালু হল ডায়াল ১১২ পরিষেবা। মহালয়ার দিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে এই জরুরি পরিষেবার সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সঙ্গে রাজ্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ৪৫০টি চারচাকা গাড়ি এবং ৪৫০টি মোটরবাইক। প্রশাসনের লক্ষ্য একটাই, নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের সময়ে পুলিশ যেন সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যেতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
এ দিন মানুষের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বর্তমানে আমাদের রাজ্যে প্রতি এক লাখ মানুষের সুরক্ষায় ১৫৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন, যেখানে যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে এই সংখ্যাটা ২০০। অথচ আগের সরকারের আমলে আমাদের রাজ্যে প্রতি লাখে মাত্র ১০৫ জন পুলিশ ছিল! পর্যাপ্ত জনবল না থাকলে আইনি লড়াই বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়।” এই নতুন ব্যবস্থায় বিপদে পড়লেই ১১২ নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইতে পারবেন সাধারণ মানুষ। পরিষেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দিন-রাত যে কোনও যে কোনও পরিস্থিতিতে বিপদে পড়লেই সাহায্য পাওয়া যায়।
পুলিশের হাতে নতুন যানবাহন তুলে দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশ স্টেশনগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনাও নিতে চলেছেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক পর্যায়ে ৪৫০টি থানায় একটি করে গাড়ি ও একটি করে মোটরবাইক দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি থানায় চারটি করে গাড়ি এবং চারটি করে মোটরবাইক রাখার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে রাজ্য সরকার। এই যানবাহন পরিচালনার জন্য ১,৫০০ জন চালক নিয়োগের বিষয়েও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে দেরি হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থায় নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছতে গড়ে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগে। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রে এই সময় প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট। উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের মতো রাজ্যে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পৌঁছনোর উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এও জানান, বাংলাতেও আর বিলম্ব হতে দেবেন না। তাই সময় কমানোর জন্য পুলিশকর্মীদের উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ২৬০ কোটি টাকার উদ্যোগ, নদিয়ায় মহিলাদের ক্রেডিট কার্ড দিচ্ছে প্রশাসন
পুলিশি পরিকাঠামোর উন্নতির পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীর কাজের ধরন বদলানোর উপরেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। থানাগুলির পরিকাঠামো, নজরদারি ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিষেবা আরও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। নতুন হেল্পলাইন ও যানবাহনের সাহায্যে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন। সুরক্ষার পথে এটা তাদের প্রথম ধাপ। এই সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার কথা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।