ডানহাত ছাড়াই দু’বার UPSC ক্র্যাক, ১৬৭তম র‍্যাঙ্ক করে IAS হওয়ার স্বপ্নপূরণ কাজলের

অনন্যা সরকার, কেরালা: ভারতের কঠিনতম পরীক্ষাগুলির মধ্যে একটি হলো ইউপিএসসি (UPSC)। এই পরীক্ষায় পাশ করার জন্য বহু পরীক্ষার্থী বছরের পর বছর ধরে নিরলস পরিশ্রম করে যান। অনেকের কাছেই শুধুমাত্র সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়াটাই (UPSC Success Story) চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে। তবে কাজল রাজুর (Kajal Raju) ক্ষেত্রে সাফল্য কেবল প্রথমবার পরীক্ষায় সিলেক্ট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আইআইটি মাদ্রাজ (IIT–Madras) থেকে পাশ করা কাজল তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে অগ্রাহ্য করে আইএএস (IAS) হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত নিরলস চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। লেগে পড়ে থাকার জেদ আজ তাকে সাফল্যের মুখ দেখিয়েছে। আসুন কাজল রাজুর এই সাফল্যের কাহিনী (Success Story of Kajal Raju) সর্ম্পকে জেনে নেওয়া যাক। 

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বাধা হয়নি উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে

কেরালার কাসারগোড় জেলার নীলেশ্বরের বাসিন্দা কাজল রাজু ফোকোমেলিয়া সিনড্রোম (Phocomelia Syndrome) নামের এক বিরল জন্মগত অবস্থার কারণে ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেন। এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি অল্প বয়স থেকেই খুব মনোযোগ সহকারে পড়াশোনা করতেন এবং নিজের অক্ষমতাকে কোনোভাবেই উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বাধা হতে দেননি।

আইআইটি মাদ্রাজে পড়াকালীনই সিভিল সার্ভিসে যোগদানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন কাজল। আইআইটি মাদ্রাজ থেকে তিনি ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে একটি সমন্বিত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি ইউপিএসসি প্রস্তুতিতে পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। ইউপিএসসি-এর প্রথম প্রচেষ্টাতেই কাজল সর্বভারতীয় স্তরে ৯১০তম স্থান অর্জন করে ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস’ (IRMS)-এ নিযুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। অনেকেই হয়তো এই সাফল্যে সন্তুষ্ট হয়ে যেতেন, কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল ‘ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’ (IAS)-এ যোগদান করার। তাই তিনি আবারও পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে এই সফর মোটেই সুগম ছিল না। পরের অ্যাটেম্পটটে তাঁর র‍্যাঙ্ক আরও নেমে যায় এবং অন্য এক বছরে তিনি প্রিলিমিনারি বা প্রাথমিক পরীক্ষাতেই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তা সত্ত্বেও তিনি আশা ছাড়েননি। প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের কৌশলকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যান। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াটা খুব একটা সহজ ছিল না। রেলওয়ে পরিষেবার প্রশিক্ষণ ও কাজের ব্যস্ততার মাঝেও কাজল যখনই সময় পেতেন, তখনই ইউপিএসসি-এর জন্য পড়াশোনা করতেন।

আরও পড়ুনঃ সস্তায় মিলবে শুধু ফোন, SMS-র প্ল্যান? টেলিকম কোম্পানিগুলোকে প্রস্তাব TRAI-র

অবশেষে, কাজল রাজু তার এই অক্লান্ত পরিশ্রম ও অদম্য জেদের সুফল পেলেন চতুর্থবারের চেষ্টায়। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ১৬৭তম (AIR 167) স্থান অর্জন করে নেন তিনি। এরপরই তার আইএএস অফিসার হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয়।

Leave a Comment