=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block. === console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

দাপিয়ে বেড়ান সমুদ্রে! শত বাধা পেরিয়ে ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন পাইলট রেশমা

অনন্যা সরকার, কলকাতা: কথায় বলে, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, গন্তব্যে পৌঁছাতে গেলে মনে রাখা উচিত দৃঢ় সংকল্প। কাল্পনিক ডানায় ভর দিয়ে নয়, সাহস করে বাস্তবের মাটিতে পা রেখে পরিশ্রম ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে গেলে, তবেই মিলবে সাফল্য। চেন্নাইয়ের রেশমা নিলুফার বিশালাক্ষীও (Success story of Reshma Nilofer Visalakshi) এই কথাটি সত্যি প্রমাণ করেছেন। তিনি এখন ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন পাইলট (India’s first woman marine pilot)। কতটা কঠিন ছিল তাঁর এই ভিন্নধর্মী পেশায় আসার যাত্রাটা? আসুন রেশমার এই সাফল্যের কাহিনীটি জেনে নেওয়া যাক। 

এক সাধারণ পরিবার থেকে এক ভিন্নধর্মী কর্মজীবনের পথে রেশমা

রেশমা নিলুফার বিশালাক্ষী এই যাত্রার সূচনা হয় ২০১১ সালে, যখন তিনি কলকাতার শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি বন্দরে একজন  প্রশিক্ষণার্থী পাইলট হিসেবে যোগ দেন। ২০১৮ সালে মেরিন পাইলট হিসেবে যোগ্যতা অর্জনের আগে তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এর সাথেই জাহাজ পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে হয়েছে। এই সাফল্যের সুবাদে তিনি ভারতের অন্যতম দুরূহ নৌ-চলাচল অঞ্চল, হুগলি নদীতে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। তীব্র জোয়ার-ভাটা, প্রতিনিয়ত স্থান বদলানো বালুচর ও সরু জলপথের জন্য পরিচিত এই নদীতে জাহাজ চালিয়েই তাঁর কর্মজীবনের যাত্রা শুরু হয়।

রেশমা চেন্নাইয়ের একটি ছোট ৬০০ বর্গফুটের সরকারি কোয়ার্টারে বড় হয়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা-মা দু’জনেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী ছিলেন এবং ছোটবেলায় সামুদ্রিক জগতের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি সংযোগ বা পরিচয় ছিল না। কিন্তু একদিন খবরের কাগজের একটি শিপিং কোম্পানির ডুয়েল কম্পিটেন্সি প্রোগ্রামের বিজ্ঞাপন দেখার পরই রেশমার জীবন বদলে যায়। প্রায় ৪,০০০ আবেদনকারীর মধ্যে থেকে মাত্র ৩০০ জন প্রার্থীকে সম্পূর্ণ ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে পাঁচ বছরের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রেশমাও। 

আরও পড়ুন: মস্তিষ্ক গবেষণায় অভূতপূর্ব সাফল্য, চিকিৎসায় নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

তিনি এএমইটি (AMET) বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেন, যেখানে প্রায় ৫,০০০ পুরুষ ছাত্রের মধ্যে পড়াশোনা করেন তিনি। তাঁর ব্যাচে মাত্র পাঁচজন মহিলা ছিলেন, যা এই মেরিন ইন্ডাস্ট্রিজের ক্ষেত্রে চরম লিঙ্গ বৈষম্যকে তুলে ধরে। প্রশিক্ষণ শেষ করার পর, তিনি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টে ট্রেইনি পাইলট হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক জাহাজে দুই বছর নৌচালনা শেখেন। তাঁর প্রথম দায়িত্ব ছিল আইসিজিএস রাজকিরণ জাহাজে।

পরবর্তীতে তিনি কোস্ট গার্ড, ভারতীয় নৌবাহিনী, মার্চেন্ট নেভি এবং বড় মালবাহী জাহাজ চালনা করেন, যেখানে তাঁকে প্রায়শই প্রবল স্রোত, কম দৃশ্যমানতা এবং অপ্রত্যাশিত আবহাওয়ার সম্মুখীন হয়ে কাজ করতে হয়েছে। তাঁর এই যাত্রাপথে, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য তাঁকে বহু মানুষের সংশয়ের সাথেও লড়াই করতে হয়। এমন একটি কঠিন পেশায় তিনি ‘পুরুষের মতো কাজ’ করতে পারবেন কি না, সেই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এই ক্ষেত্রে অল্প কয়েকজন নারীর মধ্যে একজন হওয়ার একাকীত্ব তাঁর এই চ্যালেঞ্জকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। তা সত্ত্বেও, তিনি দৃঢ় সংকল্পের সাথে অটলভাবে এগিয়ে চলেছেন। 

আরও পড়ুন: ৫ কোটির মধ্যে মিটিয়েছেন ৫০ লাখ! রাজপাল যাদবকে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের

জানিয়ে রাখি, ২০১৮ সালে, রেশমা নিলুফার বিশালাক্ষী আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের প্রথম মহিলা মেরিন পাইলট হন, যা দেশের সামুদ্রিক ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করে। তাঁর এই কৃতিত্বকে পরবর্তীতে ভারতের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নারী শক্তি পুরস্কার ২০১৮’ দিয়ে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মেরিন পাইলটের মতো পুরুষ-শাসিত একটি পেশায় তিনি নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তিনি পরিবর্তনের জন্য সুযোগের অপেক্ষা করেননি, যেখানে কোনো সুযোগ ছিল না, সেখানে তিনি নিজেই পথ নিজেই তৈরি করেছেন এবং এমন সব পথ পাড়ি দিয়েছেন, যেখানে মহিলারা জাহাজ নিয়ে দাপিয়ে বেড়াবেন এমনটা অনেকেরই কল্পনার বাইরে ছিল।

Leave a Comment