দামোদরে দেখা মিলল ইলিশের! দু’বছর পর রূপোলি শস্যের সন্ধান পেয়ে খুশির হাওয়া খন্ডঘোষে

অনন্যা সরকার, পূর্ব বর্ধমান: পশ্চিমবঙ্গের বাজার এখন ছেয়ে গিয়েছে ভিনরাজ্য থেকে আসা ইলিশে (Ilish)। স্থানীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে পারছে না, তাই গুজরাট, এমনকি মায়ানমার থেকে আমদানি করতে হচ্ছে রূপোলি শস্য। কিন্তু বাংলার নদীতে পাওয়া ইলিশের স্বাদের জুড়ি মেলা ভার। তাই ঠিক রসনাতৃপ্তি হচ্ছে না ইলিশপ্রেমীদের। এরকম পরিস্থিতিতে এবার এল এক সুখবর। দীর্ঘদিন পর দামোদর নদীতে আবার মিলেছে ইলিশের সন্ধান। পূর্ব বর্ধমানের এক মৎস্যজীবীর জালে উঠেছে বেশ বড় আকারের একটি ইলিশ, যা জেলার অন্যান্য মৎস্যজীবীদের মনে আশার আলো জাগিয়েছে। 

দামোদর থেকে উঠলো ইলিশ

পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের মৎস্যজীবী সনাতন সরকার খুব ভোরে দামোদরে জাল ফেলেছিলেন এবং কিছুক্ষণ পর তিনি যখন জালটি তীরে টেনে তোলেন, তখন তার মধ্যে দুটি রূপোলি মাছকে ঝলমল করতে দেখেন। অনেক দিন পর দামোদর নদীতে ইলিশের দেখা পেয়ে বর্ধমানের জেলেদের মুখে ফুটেছে হাসি। কিন্তু কীভাবে আবার দামোদরে ফিরে এল ইলিশ? আসলে, বেশ কয়েকদিন ধরে একটানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়তে হয়েছে, এর ফলে বেড়ে গেছে দামোদর নদীর জলস্তর। আর সেই জলের সাথেই নদীতে ইলিশ ঢুকেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।  

খণ্ডঘোষের বেলডাঙ্গায় দামোদর নদী থেকে প্রায় ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশ মাছ ধরা পড়ে মৎস্যজীবী সনাতন সরকারের জালে। তবে তিনি একটি মাছ ধরতে পারলেও অন্যটি পালিয়ে আবার নদীতে চলে যায়। তাই একটি মাছ নিয়েই সন্তুষ্ট হতে হয় তাঁকে। তবে, এত দিন পর দামোদর নদীতে ইলিশের দেখা পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: গভীর নিম্নচাপের সম্ভাবনা, উপকূলে তাণ্ডব চালাবে ঝড় বৃষ্টি, আজকের আবহাওয়া

জানিয়ে রাখি, দু’বছর আগে দামোদরে ইলিশের দেখা মিলেছিল। সেসময় প্রায় কুড়ি বছর পর পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর এলাকার দামোদর নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়ে মাছটি। প্রায় ১ কেজি ওজনের ইলিশটিকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। নোনা জলের মাছ, যা মূলত সমুদ্রে বা নদীর মোহনায় ঝাঁক বেঁধে থাকে, তা কীভাবে দামোদরের মিষ্টি জলে এল তা নিয়েও শুরু হয় জোর চর্চা। পরে ইলিশটি নিলামে ওঠে। ১২০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া সেই নিলামে জামালপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মণ বিশ্বাস অবশেষে কেজি প্রতি ২১০০ টাকা দরে মাছটি কিনে নিয়ে যান। বছর দুয়েকের মধ্যেই দামোদরে আবার ইলিশের দেখা পাওয়ার খবরে বেজায় খুশি স্থানীয়রা।

Leave a Comment