দেউলিয়া থেকে ৩০০ কোটির ব্যবসা, এক আইডিয়াই বদলে দেয় শুভমের কেরিয়ার

অনন্যা সরকার, কলকাতা: এটা কোনও সিনেমার গল্প নয়, তবে মুম্বাইয়ের বাসিন্দা শুভম গুপ্তার (Shubham Gupta) সাফল্যের কাহিনী সিনেমার চেয়ে কিছু কমও নয়। কোনও নামকরা স্কুল-কলেজের ডিগ্রি নেই শুভমের। তবে সফল স্ট্রিটওয়্যার ব্র্যান্ড, বঙ্কার্স কর্নার (Bonkers Corner) তৈরি করে সাফল্য ও সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়ে তুলেছেন তিনি। জেন-জি (Gen-Z)-দের টার্গেট করে তৈরি তার এই ব্র্যান্ডের টার্নওভার এখন বছরে ৩০০ কোটি টাকা। তবে তার এই সফর মোটেই সহজ ছিল না। অনেক চড়াই-উৎরাই পার করতে হয়েছে শুভমকে। চলুন জেনে নিন তার কাহিনী।

দেউলিয়া থেকে ৩০০ কোটির ব্র্যান্ডের সফর

শুভম মুম্বাইয়ের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। তোর বাবার একটি কাপড়ের ব্যবসা ছিল। মোটামুটি স্বাচ্ছন্দেই দিন কাটাচ্ছিলেন তারা কিন্তু ২০১১ সালে সবকিছু পাল্টে গেল। বাবার ব্যবসা একেবারে ভেঙে পড়ায় তাদের পুরো পরিবার দেউলিয়া হয়ে গেল। শুভম তখন সবেমাত্র স্কুল পেরিয়ে কলেজে পা রেখেছে। আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য রাতারাতি ভ্যানিশ। তাই শুভমের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু এই অবস্থাতেও হাল ছাড়েননি তিনি। 

সীমিত সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন শুভম গুপ্তা। নানারকম পার্টটাইম কাজ করে পরিবার ও নিজের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন। সেই সময় তিনি নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের মধ্যে স্ট্রিট ফ্যাশন নিয়ে উন্মাদনা লক্ষ্য করেন। বিশেষ করে জেন জি-দের মধ্যে গ্রাফিক্স টি-শার্ট এবং ‘আউট অফ দ্য বক্স’ ক্যাজুয়াল পোশাকের প্রতি আগ্রহ বিশেষভাবে দেখা যায়। 

এরপর শুভম সেই আইডিয়াকে কাজে লাগিয়ে প্রথমে স্থানীয় মার্কেট থেকে টি-শার্ট কিনে এনে নিজেই বিক্রি করা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার এই পার্শ্ব ব্যবসা বিশাল আকার ধারণ করে। এরপর ২০১৪ সালে নতুন ব্র্যান্ড তৈরি পরিকল্পনা করেন সুভম সূচনা হয় বঙ্কার্স কর্নার (Bonkers Corner)-এর। তার উদ্দেশ্য ছিল সাশ্রয়ী মূল্যের স্ট্রিটওয়্যার তৈরি করা যা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের নির্ভীক ও সাহসী স্টাইলকে প্রতিফলিত করবে। কোন বড় বিনিয়োগ এবং মার্কেটিং ছাড়াই একটা একটা অর্ডার করে শুভম ব্যবসা বাড়াতে থাকেন।  

আরও পড়ুনঃ সাড়া দেয়নি প্রশাসন, গাঁটের কড়ি খরচা করে পড়ুয়াদের জন্য রাস্তা বানালেন প্রধান শিক্ষক

এরপর শুভম গুপ্তার জীবনে আসে বড় মোড়। তিনি তার ব্র্যান্ড নিয়ে হাজির হন শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া (Shark Tank India)-এর মঞ্চে। ততদিনে, বনকার্স কর্নারের আয় ১৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তিনি পিচের সময় জানান তার কোম্পানির ভ্যালুয়েশন ৩০০ কোটি টাকা, যা নমিতা থাপার, অনুপম মিত্তালদের চমকে দিয়েছিল। শুভম জানান, ৩০ কোটির মুনাফা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর এখন তার কোম্পানির জন্য মূলধনের থেকেও বেশি লজিস্টিক ও আইটি (IT)-এর উন্নতি প্রয়োজন, তাই তিনি শার্কদের সাহায্যে চান। অবশেষে, খুব বেশি আলোচনা ছাড়াই নমিতা থাপারের সঙ্গে ডিল সাইন করেন শুভম।

Leave a Comment