দেশের একমাত্র শব্দ সংগ্রহশালার উদ্বোধন কলকাতায়, ‘বাংলা’র প্রসার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাকে নতুন করে সাজাচ্ছে কেন্দ্র। যেন আরও পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। এদিন কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে ভারতের প্রথম শব্দ সংগ্রহশালা উদ্বোধন করলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে অন্যান্য নেতা-মন্ত্রীরা। এমনকি এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি এদিন তিনি শব্দ ও ভাষার মাহাত্ম্য সম্পর্কে রাজ্যের পড়ুয়াদের অবহিত করেন। মাতৃভাষাকে যাতে কোনও সময় ভুলে না যায়, সেই বার্তা শোনা যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গলায়।

সংগ্রহশালা উদ্বোধন গৃহমন্ত্রীর

এদিন অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, “এই শব্দ সংগ্রহশালা বাংলা তথা কলকাতার মুকুটে নয়া পালক। এর সবথেকে বড় গ্যালারি হবে ভাষার সময়রেখা। এই সংগ্রহশালাটিতে ভারতের মোট ২২টি ভাষার বিবর্তনকে তুলে ধরা হবে। যদিও ২০২০ সালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ভাষা সংগ্রহশালা তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ীই তা সম্পন্ন হয়েছে। আজ বাংলা ফের সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা এমন জায়গা যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মেছেন।” পাশাপাশি এদিন ঋষি অরবিন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মন্ত্রী।

অমিত শাহের আরও সংযোজন, “আমাদের এই দেশে সংকীর্ণতার কোনও জায়গা নেই। ভাষার মাধ্যমে কোনও দেশের সংস্কৃতি বোঝা যায়। আর ভাষাই আমাদের ঐতিহ্য বহন করে থাকে। এই শব্দের জাদুঘর এবার সেটাই করবে। দেশের সংস্কৃতিকে পুনরুদ্ধার করবে এই সংগ্রহশালা।” এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা যায়, “বাংলা ভাষাকে তার পূর্ণ মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা আর বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীজি আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেটি আগামীকাল বিধানসভায় তুলে ধরা হবে।”

আরও পড়ুন: বিশ্বকাপ ফাইনাল উপলক্ষ্যে রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধের ঘোষণা সরকারের

বলে দিই, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের আওতায় গড়ে ওঠা এই সংগ্রহশালা তৈরি করতে মোট ১৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এমনকি গোটা প্রকল্পের জন্য ৪১ কোটা টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এদিন ৯টি গ্যালারি খোলা হয়েছে। সেগুলি হল—আদি শব্দ, মাতৃভাষা, ভাষার বিবর্তন, নবরস, প্রতিটি ভাষায় মহাপুরুষদের অবদান, সর্বজনীন সংলাপ, মৌখিক, ঐতিহ্য প্রদর্শন এবং পাবলিক লাইব্রেরীর ইতিহাস। এছাড়াও স্বীকৃত ২২টি ভাষার শব্দভাণ্ডার, ধ্বনি বিবর্তন, ভাষার ইতিহাসকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এদিন।

Leave a Comment