অনন্যা সরকার, কলকাতা: ৫২ বছর ধরে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, আজ ৭১ বছরের কোটায় এসে এমবিবিএস অ্যাডমিশনে (MBBS Admission) প্রবীণ নাগরিকদের (Senior Citizens) জন্য আলাদা সংরক্ষণের দাবিতে এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন নিট (NEET UG 2026) পরীক্ষার্থী অশোক বাহার। এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে যোগ্য প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষণের আবেদন জানিয়ে একটি লিখিত আবেদন (Writ Petition) দাখিল করেছেন তিনি। রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২১ জুলাই আদালতে আবেদনটি শুনানির জন্য উঠতে পারে।
কেন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কোটা চাইছেন অশোক বাহার?
অশোক বাহার তাঁর আবেদনে প্রশ্ন তুলেছেন যে, সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে যখন অন্য বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষণ বা বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে, তখন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কেন এমন কোনো বিশেষ ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে না। তাঁর যুক্তিটি অত্যন্ত সহজ – যদি নিট পরীক্ষায় দেওয়ার জন্য বয়স কোনো বাধা না হয়ে থাকে, তবে মেডিকেল স্টাডিজে সিট পাওয়ার ক্ষেত্রেও প্রবীণ নাগরিকদের একইরকম সুযোগ থাকা উচিত।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানির আগে মিলল ৫০,০০০ টাকা
অশোক বাহারের আইনজীবী পঙ্কজ ধীর সিং রানা জানান, সুপ্রিম কোর্ট নিট-ইউজি পরীক্ষার জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা তুলে নিয়েছে। তাই আবেদন করা হচ্ছে, প্রবীণ নাগরিকরা যদি আইনত চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন, তবে তাঁদের কলেজে ভর্তির সম্ভাবনাকে সমর্থন করার জন্য একটি নীতিগত কাঠামো চালু করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ৭১ বছরের অশোক বাহার ৫ দশকেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নকে মনে লালন করছেন। ১৯৭৪ সালে তিনি প্রথমবার চিকিৎসা প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসেছিলেন, তবে সেবারে সফল হতে পারেননি। ২০২৩ সালে ৬৮ বছর বয়সে আবার তিনি চেষ্টা করেন, কিন্তু পরীক্ষার সেন্টার অনেক দূরে পড়েছিল, তাই পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তাকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। তাও হাল ছাড়েননি বৃদ্ধ। এবছর মে মাসেও তিনি নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক, কী হল যুবরাজের?
অশোক বাহারের মনে এই স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন তাঁর মা সাবিত্রী দেবী। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর ছেলে চিকিৎসক হোক। ১৯৯০ সালে মা মারা যান, কিন্তু তাঁর সেই অপূর্ণ স্বপ্ন এখনও অশোক বাহারের সঙ্গে রয়ে গেছে। পরবর্তীকালে তাঁর স্ত্রী ডা. মঞ্জু বাহারও তাঁকে এই স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। অশোক বাহার জানান যে, তিনি এমন এক পরিবার থেকে এসেছেন, যেখানে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই এখন বিদেশে কর্মরত। তার মতে, পড়াশোনা শেখার কোন বয়স হয় না। তাই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে জীবনের শেষ ইনিংসে এসেও তাঁরা নিজেদের অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।