সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পেনশন প্রাপকদের (Pensioners) জন্য রইল জরুরি খবর। পেনশনভোগীদের প্রতি বছর একটি জীবন প্রমাণপত্র (Life Certificate) জমা দিতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো, পেনশনভোগী যে জীবিত আছেন এবং তাঁর পেনশন নিয়মিতভাবে প্রদান করা যাবে, তা নিশ্চিত করা। ডিজিটাল জীবন প্রমাণপত্রের সুবিধা থাকায়, এখন অনেক পেনশনভোগী বাড়ি থেকে অথবা নিকটবর্তী কোনো কেন্দ্রে গিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারেন। সাধারণত অক্টোবর মাসে ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা সর্বপ্রথম এই সুবিধাটি পান। তবে, পেনশনভোগীদের জন্য সরকারি নতুন নির্দেশিকা জারি হয়েছে।
জীবন প্রমাণপত্র নিয়ে নতুন নির্দেশিকা
বর্তমান ব্যবস্থা অনুযায়ী, ৮০ বছর বা তার বেশি বয়সী পেনশনভোগীরা ১লা অক্টোবর থেকে তাদের লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেন। ৮০ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য এই প্রক্রিয়াটি সাধারণত ১লা নভেম্বর থেকে শুরু হয়। সকল যোগ্য পেনশনভোগীদের জমা দেওয়ার শেষ তারিখ সাধারণত ৩০শে নভেম্বর। সুতরাং, ৮০+ বছর বয়সী পেনশনভোগীরা অক্টোবর মাসেই তাদের ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট জমা দিতে পারেন। এদিকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পেনশন অব্যাহত রাখতে আধার কার্ড থাকা সব সময় বাধ্যতামূলক নয়।
সূত্রের খবর, ডিজিটাল পোর্টালে আধার বাধ্যতামূলক হলেও আধার না থাকায় পেনশন বন্ধ হবে না। কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী, আধারহীন পেনশনভোগীরা ব্যাঙ্ক বা পেনশন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষরসহ প্রয়োজনীয় ফর্ম জমা দিতে পারবেন। গুরুতর অসুস্থতার কারণে যেতে না পারলে অনুমোদিত আধিকারিকের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে।
জীবন প্রমাণপত্র কী?
জীবন প্রমাণপত্র হলো একটি আধার-ভিত্তিক ও বায়োমেট্রিক-সক্ষম ডিজিটাল জীবন শংসাপত্র। এর ফলে যোগ্য পেনশনভোগীদের প্রতি বছর কাগজের জীবন প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। আধার-ভিত্তিক পরিচয় ভেরিফিকেশনের পর, ডিজিটাল জীবন শংসাপত্রটি তৈরি হয় এবং জীবন প্রমাণ রেকর্ডে সংরক্ষিত থাকে। এরপর সংশ্লিষ্ট পেনশন বিতরণকারী সংস্থা এটি ইলেকট্রনিকভাবে দেখতে পারে।
আরও পড়ুনঃ উচ্চশিক্ষার জন্য কেন্দ্র দিচ্ছে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ, কারা করতে পারবেন আবেদন?
পেনশনভোগীরা জীবন প্রমাণ কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে তাদের শংসাপত্র তৈরি করতে পারেন। এই সুবিধাগুলি সিএসসি বা কমন সার্ভিস সেন্টার, কিছু ব্যাঙ্কের শাখা এবং সরকারি অফিসগুলিতে পাওয়া যায়। এছাড়াও, প্রয়োজনীয় প্রমাণীকরণ সুবিধা এবং একটি উপযুক্ত ডিভাইস থাকলে, জীবন প্রমাণ অ্যাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকেও এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যেতে পারে।