বাবার ক্যান্সার, মা সেলাই করে চালান সংসার, অভাবকে সঙ্গী করে NEET ক্র্যাক, ডাক্তার হবেন সাগর

অনন্যা সরকার, বাধা বিপত্তি যতই আসুক, মানুষের মনে সংকল্প যদি দৃঢ় থাকে, তাহলে কোনও বাধাই আর বাধা থাকে না। ঝাড়গ্রামের সাগর গোস্বামী এটাই সত্যি প্রমাণ করেছেন (NEET UG Success Story of Sagar Goswami)। বাবার ক্যান্সার, আর্থিক অনটন – কিছুই তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তাঁর  পরিশ্রম ও অধ্যাবসায় সাথে বিনপুর পুলিশের সহায়তা তাঁকে তাঁর স্বপ্নের অনেকটা কাছাকাছি পৌঁছে দিয়েছে।  সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে নিট ইউজি (NEET UG 2026) পরীক্ষায় ২২,৬৬২ সর্বভারতীয় র‍্যাঙ্ক (AIR) অর্জন করেছেন। বর্তমানে কলকাতার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এমবিবিএস (MBBS) পড়ার সুযোগ পেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন সাগর।

পুলিশ জোগালো পড়াশোনার খরচ

ঝাড়গ্রামের বিনপুর গ্রামের বাসিন্দা সাগরকে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল। বাবা ক্যান্সারের সাথে লড়াই করছেন, প্রচণ্ড আর্থিক অনটন সংসারে। যেটুকু সঞ্চয় ছিল, তার সবটাই ব্যয় হয়ে গেছে বাবার চিকিৎসার পেছনে। তাঁর মা দর্জির কাজ করে সংসার চালান, আর বাবা শরীর যখন ভালো থাকে প্রাইভেট টিউশনি করিয়ে কিছুটা আয় করেন। তাই সাগরের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা প্রায় মরেই গিয়েছিল। ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্র তিনি। মাধ্যমিকে ৯৬ শতাংশ আর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯৩.৪ শতাংশের সাথে চমৎকার ফলাফল করেছিলেন। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অবস্থা সাগরের উচ্চশিক্ষার পথে একটা বড় বাধা হয়ে উঠেছিল। ঠিক এই সময়েই মাথায় ওপর বটগাছ হয়ে দাঁড়ায় বিনপুর পুলিশ।

ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মানব সিংলার তত্ত্বাবধানে পুলিশ সাগরকে আর্থিকভাবে সাহায্য করে, যার ফলে তিনি নিটের প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে সক্ষম হন। সাগর গোস্বামী অ্যালেন দুর্গাপুর এবং পরে অ্যালেন রাঁচির মতো কোচিং ইনস্টিটিউট থেকে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষায় সর্বভারতীয় স্তরে ২২,৬৬২ র‍্যাঙ্ক অর্জন করে নিয়েছেন। সাগরের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত তাঁর পরিবার। সাগর পুলিশের প্রতি তাঁর অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের ছাড়া এই সাফল্য পাওয়া সম্ভব হত না বলেই জানান তিনি। বিনপুর পুলিশের সাহায্যেই তিনি দুর্গাপুরে নিটের কোচিং নিতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন: ঝাড়খণ্ডের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি! স্কলারশিপ পেয়ে অসাধ্য সাধন শ্রমিকের মেয়ের

পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের পুলিশ সুপার জানান, সাগর একজন অসাধারণ মেধাবী ছাত্র। এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, সে যেভাবে নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে নিট-এ সফল হয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তার স্বপ্ন পূরণে সামান্য ভূমিকা রাখতে পেরে পুলিশ কর্তৃপক্ষও আনন্দিত। ভবিষ্যতে একজন ভালো ডাক্তার হয়ে সাগর মানুষের সেবা করুক এটাই তাঁদের আশা।

Leave a Comment