বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতের সমকক্ষ হওয়ার স্বপ্ন পাকিস্তানের (Pakistan) আজকের নয়, আর্থিক দিক থেকে দুর্বল দেশটি বহু যুগ ধরেই ভারতকে টেক্কা দিতে মরিয়া। তবে বাস্তবের মাটিতে পা রাখলে সেই স্বপ্ন থেকে বহুদূর ছিটকে যায় ইসলামাবাদ! তাও নতুন করে ভারতের সবচেয়ে কাছের বন্ধু রাশিয়ার (Russia) সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে বড় কিছু করে দেখানোর পরিকল্পনা করছে পশ্চিমাদের দেশ। আসলে আগামী বছর অর্থাৎ 2027 এ SCO সামিটের আয়োজক হবে পাকিস্তান। তাই ইসলামের দেশের আশা হয়তো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও পাকিস্তানে গিয়ে ওই শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা!
ভারতের সমকক্ষ হয়ে উঠতে চাইছে পাকিস্তান?
ডনের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক এবং ইসলামাবাদ-ভিত্তিক পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ পিস স্টাডিজের পরিচালক মোহাম্মদ আমির রানা জানিয়েছেন, পাকিস্তান রাশিয়ার সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী। একইভাবে মস্কোও ইসলামাবাদ পর্যন্ত বহু আপেক্ষিত রেল লাইনের উন্নয়নের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন করিডোর গড়ে তুলতে আগ্রহী। আর এই করিডোর এশিয়া এবং ইরানের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানকে রাশিয়ার সাথে যুক্ত করবে।
বলাই বাহুল্য, সাম্প্রতিক অতীতে পাকিস্তান এশিয়ার একাধিক দেশ এমনকি ইরানের সাথেও নানান প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করেছিল, তবে একটাও বাস্তবায়িত হয়নি। মূলত সে কারণেই এবার রাশিয়ার উপর ভরসা করছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, পাকিস্তান আসলে রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ভারতের সমকক্ষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তবে সেটা সম্ভব হবে না কোনও দিনও।
মনে করিয়ে দিই, পাকিস্তানের সবচেয়ে দীর্ঘতম যুদ্ধটি হয়েছিল আফগানিস্তানে। সেখানে ইসলামাবাদ লড়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন অর্থাৎ বর্তমান রাশিয়ার বিরুদ্ধে। পাকিস্তান এবং আফগান মুজাহিদিনরা আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়ে রাশিয়াকে পরাস্ত করেছিল! সেই অতীত ভুলে যাননি ভ্লাদিমির পুতিন। হয়তো সে কারণেই রাশিয়া পাকিস্তানকে বিশ্বাস করতে পারবে না।
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে ভারতে ঢুকতে না দিলে কী হতে পারতো? জানালেন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বিশেষজ্ঞ মহলের কেউ কেউ বলছেন, সময় বদালালেও ইসলামাবাদের উপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারবে না মস্কো। তাছাড়াও সবচেয়ে কাছের বন্ধু ভারতের সাথে চিরকাল শত্রুতা করে এসেছে এই দেশ! ফলে বন্ধু ভারতকে ছাড়িয়ে পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠতা নাও বাড়াতে পারে রাশিয়া। এর পাশাপাশি ভারতের সাথে রাশিয়ার বাণিজ্য 69 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ফলে বাণিজ্যিক দিক মাথায় রেখেও হয়তো ইসলামাবাদকে বেশি কাছে ঘেঁষার সুযোগ দেবে না পুতিনের দেশ।