প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর ১১৪ দিনের মাথায় দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামে (Nandigram) প্রশাসনিক বৈঠক করলেন তিনি। আজ, সোমবার, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকের একাধিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রেয়াপাড়া শিবমন্দির ময়দানে জনসভা করেন তিনি। আর এবার এই সভা থেকে অন্নপূর্ণা (Annapurna Yojana), আয়ুষ্মান সহ প্রায় তিনশো কোটি টাকার উন্নয়ন ও পরিষেবা মূলক প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আয়ুষ্মান ভারত ও স্বাস্থ্যবীমা যোজনা নিয়ে বিরাট বার্তা
উল্লেখ্য, বাংলায় ক্ষমতায় আসার পরেই আয়ুষ্মান ভারত কার্ড চালু করেছে বিজেপি সরকার। তবে যাঁরা সেই প্রকল্পের অধীনে পড়বেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এদিন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিনামূল্যে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সার্বজনীন অধিকারের কথা তুলে ধরেন যেখানে ২.৫ লক্ষ মানুষকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ড এবং নিয়মের জটিলতায় আটকে যাওয়া আরও ৮৭ হাজার মানুষকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা’র কার্ড দেওয়া হচ্ছে। পূর্বতন সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ডকে কটাক্ষ করে বলেন যে রাজ্যে ১,৭০০টি হাসপাতালে সুযোগ মিলত। কিন্তু নতুন দুই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও দিল্লির এইমস, ভুবনেশ্বর এইমস, ভেলোরের সিএমসি, মুম্বইয়ের টাটা ক্যান্সার হাসপাতাল, ব্যাঙ্গালোর, চণ্ডীপুর পিজিআই, নাগপুর, সুরাট ও হায়দরাবাদের ড. রেড্ডির মতো প্রথম সারির হাসপাতালে সুবিধা পাওয়া যাবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
নন্দীগ্রামের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী জানান, “কেন্দ্রামারী, মোহাম্মদপুর, সামসাবাদ- সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলো, একটা ভোটও তো আমাকে দেননি। আজকে বাড়ির টাকা নিয়ে যান আনন্দ করতে করতে, আর আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডটা নিয়ে যাবেন।” এছাড়াও অন্নপূর্ণা যোজনা প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানান, “আগস্ট মাসে নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৫ হাজার নাম যাচাইকরণের কাজ চলছে, যোগ্য বিবেচিত হলে শীঘ্রই তাঁরাও এই অর্থ পাবেন।” এছাড়াও গ্রামোন্নয়ন ও আর্থিক সুরক্ষায় একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে শুরু করে জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর বাড়বাড়ন্তে কলকাতায় মৃতের সংখ্যা বাড়ল ১০-এ, নজরে কৃত্রিম জলাশয়, ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একাধিক ঘোষণা
জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে ‘মাতৃ মা’ ভবনের কাজের সূচনা করা হয়েছে, যেখানে রোগীদের পরিজনদের জন্য নাইট শেল্টারের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও চালু হবে ‘প্রধানমন্ত্রী জন ঔষধি কেন্দ্র’ এবং রেয়াপাড়া রুরাল হেলথ সেন্টারের শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৬০ করা হল। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল দুর্ঘটনা বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর তমলুকে ময়নাতদন্তের জন্য যেতে হবে না কারণ নন্দীগ্রামেই থাকছে নিজস্ব পুলিশ মর্গ। অন্যদিকে স্বনির্ভর দলগুলির রিভলভিং ফান্ড ও কাজের পরিধি বাড়াতে প্রতিটি অ্যাকাউন্টে ৩০,০০০ টাকা করে স্থানান্তর করা হয়েছে।