রাজ্যে চালু শিক্ষকদের আপস বদলি, স্কুল সার্ভিস কমিশনের দফতরে শুনানি, কবে?

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা আবারও আপস বদলির (Mutual Transfer) প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থাৎ দুই শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে একে অপরের কর্মস্থলে চাকরি বদল করতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (West Bengal School Service Commission) ‘উৎসশ্রী’ (Utsashree) পোর্টালে আপস বদলি প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে। গত বৃহস্পতিবার কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, দীর্ঘদিন ধরে কমিশনের কাছে অনেক আপস বদলির আবেদন জমা পড়ে রয়েছে। এই আবেদনগুলি এবার ২০১২ সালের বিধি অনুযায়ী একে একে বিবেচনা করা দেখা শুরু হবে।

আপস বদলি প্রক্রিয়া শুরু করছে রাজ্য সরকার

রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আগামী ১২ অগস্ট সকাল ১১টা থেকে সল্টলেকের করুণাময়ীতে কমিশনের দ্বিতীয় দফতরে আপস বদলির জন্য আবেদনকারী কর্মীদের উপস্থিত থেকে শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। ওইদিন আবেদনকারীদের পরিষেবা-সংক্রান্ত নথির কপি এবং ১,০০০ টাকার ডিমান্ড ড্রাফ্‌ট সঙ্গে করে নিয়ে আসারও নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

আরও পড়ুন: সরকারি স্কুলের ইউনিফর্মে বড় সিদ্ধান্ত, নীল-সাদা রং নিয়ে কী বলছেন শিক্ষামন্ত্রী?

এছাড়াও স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, যে সমস্ত শিক্ষক ও কর্মীরা এখন আর আপস বদলি চান না, তাঁদেরও প্রধানশিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের মাধ্যমে ফরওয়ার্ড করা লিখিত আবেদন নিয়ে করুণাময়ীর অফিসে হাজির থাকতে হবে। যে সমস্ত আবেদনকারীদের আদালতের নির্দেশে সুপারিশ করা হয়েছে, তাদের আদালতের নির্দেশনামা ও কমিশনের সুপারিশপত্র সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ অগাস্ট মোট ৭৭ জন আবেদনকারীকে ডাকা হয়েছে। 

কমিশন জানিয়েছে ওইদিন সমস্ত নথি যাচাই করার পর উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে পারস্পরিক বদলির সুপারিশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এই প্রসঙ্গে শিক্ষকরা বলেন, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আপস বদলির জন্য পোর্টাল বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু তখনও আবেদন নেওয়া হচ্ছিল, ডিসেম্বরে গিয়ে সেটাও বন্ধ হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আবার আপস-বদলির আবেদন নেওয়া শুরু হয়।

আরও পড়ুন: হতে হবে না B.Ed পাস টেট উত্তীর্ণ! অবসরপ্রাপ্তদের স্কুলে পড়ানোর সুযোগ দিচ্ছে সরকার

তবে ২০২৬ সালের জুন মাস হয়ে গেলেও, আবেদনগুলি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষকেরা। স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘদিন পোর্টাল বন্ধ ছিল তাই পুরোনো আবেদনগুলি আগে নিষ্পত্তি করা হবে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষক নেতা স্বপন মণ্ডল দাবি করেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যারা আপস বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন শুধুমাত্র তাদেরকেই স্কুল সার্ভিস কমিশন ডেকেছে। এরপর যাঁরা আবেদন করেছিলেন তাদের আবেদন প্রক্রিয়াটিও দ্রুত কার্যকর করুক কমিশন। 

Leave a Comment