অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) ব্যবস্থার অধীনে করদাতা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় ধরনের পদ্ধতিগত সংস্কারের প্রস্তাব করলেন দেশের অর্থ মন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের পর প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, ১০,০০০ টাকার কম অঙ্কের জন্য কোনও জিএসটি নোটিশ জারি করা হবে না।
১০ হাজারের কম অঙ্কের জিএসটি-তে জারি হবে না নোটিশ
৫৭তম জিএসটি কাউন্সিলের প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলোর লক্ষ্য হল ছোটখাটো অনিয়ম বা ভুল থেকে তৈরি হওয়া অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা কমানো এবং জিএসটি-এর বাস্তবায়নে আরও বেশি ভারসাম্য আনা। এর পাশাপাশি, নোটিশ জারি ও প্রদান, নোটিশের আগের বিজ্ঞপ্তি, জালিয়াতির অভিযোগ, শুনানি পরিচালনা এবং আদেশের খসড়া তৈরির জন্য একই ধরনের নিয়ম বা অভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাউন্সিল জিএসটি আইনের অধীনে ট্যাক্স কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছে। এর সাথেই, মামলা দায়ের বা বিচারের মুখোমুখি হওয়ার জন্য আর্থিক সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বাধ্যতামূলক ন্যূনতম জরিমানা তুলে দেওয়ারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানা, কারাদণ্ড, নাকি উভয়ই প্রযোজ্য হবে সেই সিদ্ধান্ত বিচার ব্যবস্থার উপর ছেড়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও সাধারণ জরিমানা, যা কোনো অপরাধের জন্য নির্দিষ্ট জরিমানা নির্ধারিত না থাকলে প্রযোজ্য হয়, তার পরিমাণও ২৫,০০০ টাকা থেকে কমিয়ে ১০,০০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কাউন্সিল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব, ভুলত্রুটি বা কর প্রদানে দেরির ক্ষেত্রে, এর পরিণতি বকেয়া কর, সুদ এবং জরিমানা আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, কোনো অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: বাঙালিরা সস্তায় থাকতে পারবে বারাণসীতে, ৮০ কোটি খরচে বিশাল অতিথিশালা গড়বে রাজ্য সরকার
যেসব প্রকৃত ক্রেতার কাছে বৈধ চালানপত্র (Invoice) রয়েছে, যারা পণ্য গ্রহণ করেছেন এবং সরবরাহকারীর সম্পূর্ণ অর্থ মিটিয়েছেন, তাদের সুরক্ষার বিষয়েও পর্যালোচনা করে দেখা হবে। কর্মকর্তাদের একটি কমিটি তিন মাসের মধ্যে এই বিষয়টি পরীক্ষা করে পরবর্তী কাউন্সিল সভায় প্রস্তাবনা পেশ করবে।
কাউন্সিল জানিয়েছে, জিএসটি ব্যবস্থা এখন বিক্রেতার ইনভয়েসের সাথে ক্রেতার দাবি করা ইনভয়েস মিলিয়ে দ্রুত জালিয়াতিপূর্ণ ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট শনাক্ত করতে সক্ষম। ফলস্বরূপ, আইন প্রয়োগকারী ভয় দেখানোর পরিবর্তে ডেটা বিশ্লেষণ ও চালান-স্তরের যাচাইকরণের ওপর নির্ভর করতে পারে। এই বৃহত্তর সংস্কারের আওতায় রেজিস্ট্রেশন, রিফান্ড, রিটার্ন, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট, আইনি বিরোধের মতো ক্ষেত্রগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রস্তাবনাগুলোর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কর-সংক্রান্ত কার্যক্রমকে সরল করে তোলা।