বাতিল হল মুসলিমদের ৫% সংরক্ষণ, বড় সিদ্ধান্ত মহারাষ্ট্র সরকারের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিজেপি শাসিত রাজ্য মহারাষ্ট্রে এবার মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য ঘোষিত ৫ শতাংশ সংরক্ষণ বাতিল করল সরকার (Government of Maharashtra)। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। আর সেখানে আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের বিষয়টিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফলত, সরকারি চাকরি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিমদের জন্য চালু থাকা এই সংরক্ষণ আর কোনওভাবে কার্যকর থাকছে না।

কী ছিল এই ৫% সংরক্ষণ?

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করে মহারাষ্ট্র সরকার সামাজিক এবং শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে থাকা মুসলিম সম্প্রদায়কে ৫% সংরক্ষণের আওতায় এনেছিল। আর এই সংরক্ষণ দেওয়া হয়েছিল মূলত স্পেশাল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস এ (SBC-A) ক্যাটাগরির আওতায়। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারি চাকরিতে সুযোগ বৃদ্ধি করা, কলেজ এবং অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুবিধা দেওয়া এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর উন্নয়ন করা। তবে ওই অর্ডিন্যান্স জারি করার পর বিষয়টি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় এবং বোম্বে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। আর ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর আদালত এই সংরক্ষণের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। এমনকি আদালত জানিয়েছিল, অর্ডিন্যান্সর আইনি ভিত্তি ও বৈধতা নিয়েও রয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

কেন বাতিল হয়েছে সংরক্ষণ?

সরকারি সূত্রে খবর, ওই অর্ডিন্যান্সটি ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪ এর মধ্যে আইন হিসেবে পাস হয়নি। সেই কারণেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ল্যাপস হয়ে যায়। অর্থাৎ, আইনি বৈধতা হারায়। আর এই যুক্তিতেই সরকার জানায় যে, ল্যাপস হওয়া অর্ডিন্যান্সের ভিত্তিতে আর সুবিধা বহাল রাখা হবে না। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, SBC-A ক্যাটাগরির আওতায় মুসলিম সংরক্ষণ আর কোনওভাবেই থাকবে না। আর এই কোটা ধরে কলেজে নতুন করে ভর্তিও হবে না। পাশাপাশি নতুন জাতি শংসাপত্র ইস্যু হবে না। সবথেকে বড় ব্যাপার, এবার থেকে ভ্যালিডিটি সার্টিফিকেট দেওয়া বন্ধ হচ্ছে। আর আগের সমস্ত সরকারি সার্কুলার ও নির্দেশ অকার্যকর হবে।

আরও পড়ুন: রক্ত জমাট বেঁধেছে, ভেন্টিলেটরে সেলিম খান, হাসপাতালে ছুটলেন সলমান

প্রসঙ্গত, সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর ক্যাটাগরির আওতায় মুসলিমদের সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেটিও এখন থেকে আর কার্যকর নয় বলে জানিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার। আর এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এমনকি বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, সরকার চাইলে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে জোরদার ভাবে লড়তে পারত। এখন দেখার, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের ভোটব্যাঙ্কেও ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।

Leave a Comment