SIR আতঙ্কে মৃত্যু, ৬১ পরিবারকে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা নবান্নর

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলার এসআইআর (SIR In Bengal) পর্ব ঘিরে শুরু থেকেই একাধিক বিতর্ক হয়ে চলেছে। গোটা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে দোষারোপ করে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এর মাঝেই SIR কে ঘিরে উঠে আসছিল একের পর মৃত্যুর ঘটনা। কেউ SIR এর ভয়ে আত্মহত্যা করেছেন, তো কারোর আবার স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও নেপথ্যে ধরা হচ্ছে SIR এর ভয়। সব মিলিয়ে সেই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ তে। এবার সেই মৃত ৫৬ জনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে চলেছে রাজ্য সরকার।

৬১ টি পরিবারকে চাকরি দেবে নবান্ন

গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছিল। সেখানেই একাধিক আলোচনার মাঝেই উঠে এসেছিল SIR প্রসঙ্গ। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির যেকোনো একজন সদস্যকে হোম গার্ডের চাকরি দেবে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই জেলা ধরে তৈরি হয়েছে তালিকা। দ্রুত যাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যায়, সেই ব্যবস্থা করে ফেলেছে নবান্ন। তবে শুধু ৫৬ জনের পরিবারকেই চাকরি দেওয়া হবে তা নয়, গোটা এসআইআর পর্বে নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ ও হয়রানির শিকার হওয়া আরও ৫টি পরিবারকে যোগ করা হয়েছে এই তালিকায়। অর্থাৎ সর্বমোট ৬১ টি পরিবারকে চাকরি দেওয়া হবে।

আরও পড়ুনঃ পেনশন প্রকল্প নিয়ে সুখবর শোনাল নবান্ন

কোন কোন জেলায় দেওয়া হবে চাকরি?

মন্ত্রিসভার বৈঠক সূত্রের খবর, পুরুলিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, বীরভূম, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, মালদহ ও নদিয়া জেলায় এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন যে ৬১ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে৷ তবে সেই তালিকায় কাদের এই চাকরি দেওয়া হবে, তা বিস্তারিত ভাবে বিজ্ঞপ্তি আকারে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে৷ ভোটের আবহে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাভাবিকভাবে অনেকেই ভোট কেনার কৌশল হিসেবে দাবি করেছে। এমনকি নবান্নের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীরাও কটাক্ষ করছে।

আরও পড়ুন: রুজিরার বিরুদ্ধে করা যাবে না অবমাননাকর মন্তব্য! কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে রাজ্যের দেওয়া হোমগার্ডের চাকরিকে ‘হাফ দাড়ি কাটার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, “এদের বেতনই বা কত! পেনশন নেই, গ্র্যাচ্যুইটি নেই। প্রতিবছর চাকরি রিনিউ করতে হয়। আর এরকম প্রচুর উদাহরণ রয়েছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, এরা চাকরি রিনিউ করেনি। অন্তত ১৫ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি আর রিনিউ করা হয়নি।”

Leave a Comment