প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ইরান এবং ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে রীতিমত কাবু হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব। দু’পক্ষের মধ্যে আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণের ফলে কোপ পড়েছে জ্বালানিতে। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের (Gas Cylinder Price Hike) দামও। এদিকে এই যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহের চরম অভাব। ফলে বেঙ্গালুরু শহর জুড়ে বন্ধ হতে চলেছে সমস্ত হোটেল, রেস্তোরাঁ (Bengaluru Hotels Shut Down)। মারাত্মক ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা।
গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে মহা সমস্যায় ব্যবসায়ীরা
জানা গিয়েছে, ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বন্ধ রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যেখান দিয়ে বিশ্ব বাজারে সিংহভাগ আমদানি-রফতানি হয় তেলের। তার জেরেই গোটা বিশ্ব সহ ভারতে, জ্বালানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ১৪ কেজির রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬৩ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। একইসঙ্গে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে গ্যাস বুকিংয়ের নিয়মেও বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে সরকার। আর তার প্রভাবেই মহা সমস্যায় পড়েছে হোটেল ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে বন্ধ হতে চলেছে বেঙ্গালুরুর সমস্ত হোটেল। ইতিমধ্যেই একটি নোটিস জারি করেছে বেঙ্গালুরুর হোটেল অ্যাসোসিয়েশন।
হোটেল বন্ধের নির্দেশিকা ব্যবসায়ীদের
বেঙ্গালুরুর হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল অর্থাৎ সোমবার তাদের তরফে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হোটেল ইন্ডাস্ট্রি একটি জরুরি পরিষেবা। সাধারণ মানুষ, বয়স্ক লোকজন, ছাত্রছাত্রীরা, মেডিক্যাল পেশায় যুক্ত মানুষরা – অনেক অনেক মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন ভাবে নির্ভর করেন হোটেল-রেস্তোরাঁর উপর। আজ থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ। ফলে হোটেলের উপর নির্ভরশীল বহু মানুষ সমস্যায় পড়বেন। হাইটেক সিটির সব হোটেল বন্ধ করার ভাবনাচিন্তা করছে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যেন অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেন এবং বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের পরিষেবা ঠিকভাবে চালু করার ব্যবস্থা করেন।
Bangalore Hotels Association releases a notice saying, “The supply of gas cylinders for commercial use has been stopped from today. Since the hotel industry is classified as an Essential Service, the common people, senior citizens, students, medical and other people who depend on… pic.twitter.com/K49p5LnWVN
— ANI (@ANI) March 9, 2026
আরও পড়ুন: তেলের সঙ্কট বাংলাদেশে, উদ্ধারে ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠাচ্ছে ভারত
হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার জানিয়েছেন, সিলিন্ডারের দাম বাড়াই প্রধান কারণ। তবে সরবরাহও আরেকটি কারণ। এখন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হোটেল অ্যাসোসিয়েশগুলি যদি সংঘটিত হয়, তবে সেটা তাদের অধিকার আছে। এদিকে গ্যাস ডেলিভারি কর্মীরা জানাচ্ছেন, বাস্তবে এখনও এলপিজির কোনও বড় ধরনের ঘাটতি নেই। কিন্তু যুদ্ধের ফলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কাতেই অনেকে আগাম সিলিন্ডার তুলে রাখছেন। এতেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা শুরু করেছেন সিলিন্ডারের কালোবাজারি, আর তাই এই সংকট।