প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের রাজ্যসভার (Rajya Sabha) উপনির্বাচন হবে তিনটি আসনে। গতকাল, সোমবার, তৃণমূল কংগ্রেসের তিন পদত্যাগী রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commision Of India)৷ এদিকে ছন্নছাড়া তৃণমূলের কোনও শিবিরই সম্ভবত প্রার্থীই দেবে না। এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণেই ভোট শুরুর আগেই কার্যত ‘ফেল’ হয়ে গেল ঘাসফুল শিবির।
ফের উপনির্বাচন রাজ্যসভায়
সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যসভার আসনসংখ্যা ১৬। দু’বছর অন্তর এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়। বিধানসভা নির্বাচনের মাসখানেক আগেই এ বছর বঙ্গে পাঁচ রাজ্যসভা সাংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। চারটি আসনে জেতার মতো সংখ্যা ছিল তৃণমূলের হাতে আর একটি ছিল বিজেপির। শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন পাঁচ জন। দু’বছর পরে পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতা হারাতেই রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে যায়। তৃণমূলের তিন রাজ্যসভা সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক মেয়াদ শেষের আগেই সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়েছেন। সেই কারণে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই আবার ভোট হচ্ছে রাজ্যসভায়।
বিশেষ নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের
সাংসদদের মধ্যে সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইকের রাজ্যসভার মেয়াদ ছিল ২০২৯ সাল পর্যন্ত। অন্যদিকে সুস্মিতা দেবের মেয়াদ ছিল ২০৩০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ইস্তফা দেওয়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই এবার নতুন প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মনোনয়ন জমা দেওয়া যাবে। ১৫ জুলাই হবে মনোনয়নপত্র যাচাই, ১৭ জুলাই মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ২৪ জুলাই ভোটগ্রহণ হবে। এবার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০৮টি আসন জিতে ছিল এবং তৃণমূল পেয়েছিল ৮০টি আসন। আর এই আসন বিন্যাসের ভিত্তিতে যদি রাজ্যসভার তিনটি আসনে ভোট হয়, তা হলে বিজেপির ঝুলিতে দু’টি এবং তৃণমূলের ঝুলিতে একটি আসন যাওয়ার কথা। কিন্তু তাতেও রয়েছে সমস্যা।
প্রার্থী নিয়ে জোর তরজা তৃণমূলে
বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে শুরু হয়েছে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। বর্তমানে তৃণমূলের জয়ী বিধায়করা ঋতব্রত শিবির এবং কালীঘাট শিবিরে বিভক্ত। ঋতব্রতের শিবিরে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন। কালীঘাট শিবিরে ১৫ জন। অর্থাৎ উপনির্বাচনে কাউকে জেতাতে যত ভোট দরকার, সেটা কোনও শিবিরের হাতেই আপাতত নেই। কারণ, ঋতব্রতপন্থীরা যদি রাজ্যসভা উপনির্বাচনে একটি আসনে প্রার্থী দেন, তা হলে তিনি পেতে পারেন ৬৫টি ভোট। এদিকে কালীঘাট সেই প্রার্থীকে ভোট দেবেন না। অন্য দিকে, বিজেপির ভোট সমান তিন ভাগে ভাগ করলে তাদের প্রার্থীরা পাবেন ৬৯টি করে ভোট। ফলে তিন জনেই জিতে যাবেন। তবে এক্ষেত্রেও টুইস্ট রয়েছে।
হুইপ জারি নিয়েও বাড়ছে সন্দেহ
জানা গিয়েছে যদি ঋতব্রতপন্থীরা রাজ্যসভায় প্রার্থী দিয়ে হুইপ জারি করে তাহলে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়কেরা তা মানতে বাধ্য। তা না হলে তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হয়ে যাবে। তখন বিজেপির তৃতীয় প্রার্থীর পক্ষে জেতা সম্ভব নয়। কিন্তু বিধানসভায় যেহেতু ঋতব্রতপন্থী এবং কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের বসার ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে হুইপ কালীঘাটপন্থীদের উপরে কার্যকরী হবে কি না, তা সন্দেহ রয়েছে। যদিও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, তিনটি আসনেই বিজেপির জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এখন দেখার নির্বাচনের ফলাফল কী দাঁড়ায়।
আরও পড়ুন: তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বিতর্কে ময়দানে ED, ৫ জায়গায় চলছে তল্লাশি
প্রসঙ্গত, একসঙ্গে একাধিক আসনের নির্বাচন হলে মোট ভোটকে শূন্যপদের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে তার সঙ্গে এক যোগ করে জয়ের সংখ্যা নির্ধারণ করতে হয়। সেক্ষেত্রে বর্তমানে বিধানসভার কার্যকর সদস্য সংখ্যা ২৯২, কারণ নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর এই দুই আসন শূন্য রয়েছে। সেখানে এখনও উপনির্বাচন হয়নি। ফলে প্রতিটি আসনের ক্ষেত্রে কার্যত একজন প্রার্থীকে জিততে হলে (২৯২ ÷ ২) + ১ = ১৪৭ ভোট দরকার। অর্থাৎ কোনও প্রার্থীকে জিততে অন্তত ১৪৭ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। যেখানে বিজেপির হাতে ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছে। তাই আশা করা হচ্ছে রাজ্যসভার তিনটি আসনই কার্যত বিজেপির ঝুলিতেই যেতে চলেছে।