বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি পেছনে রেখে নির্বাচনে জিতেছেন। অথচ যোগ দিয়েছেন দেশের একপ্রকার অস্তিত্বহীন দল NCPI তে। সেই দলে যোগ দিয়ে বিজেপির নেতৃত্বাধীন NDA জোটকে সমর্থন করেছেন তিনি। এসব চলতে পারে না! এমন দাবিতেই এবার যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষের (Saayoni Ghosh) দক্ষিণ কলকাতার গড়ফার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিলেন মমতাপন্থী তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। যেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বেশ চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে।
সায়নীর কার্যালয়ে তালা ঝোলালেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা
2024 সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদের হাত মাথায় নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে যাদবপুর আসন থেকে লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন সায়নী। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে বারবার তৃণমূলের হয়ে রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরে প্রচার সেরেছেন তিনি। তৃণমূলের প্রতীক বুকে নিয়ে নিশানা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির একের পর এক নেতাকে। সায়নীর নিশানা থেকে সরেননি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর নাম করেও নানান বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন এই সাংসদ।
তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বদলেছে ছবিটা। তৃণমূলকে উৎখাত করে বিজেপিকে বাংলার মসনদে বসিয়েছেন আমজনতা। আর তারপরেই মমতার দলের প্রতি সমস্ত মোহ ভঙ্গ হয়েছে সায়নীর! বিদ্রোহী দল ঘুরে যোগ দিয়েছেন NCPI তে। প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী সেই দলে যোগ দিয়েছেন যারা ভারতীয় জনতা পার্টিকে প্রত্যক্ষভাবে সমর্থন করে। আর তারপরেই গড়ফার 106 নম্বর ওয়ার্ডে সায়নীর ব্যবহৃত কার্যালয় তালা লাগিয়ে দিলেন মমতাপন্থীরা।
অবশ্যই পড়ুন: টানা ৬ বলে ৬টি ছক্কা, ইতিহাস তৈরি করে দলকে জেতালেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান
জানা যায়, গত লোকসভা নির্বাচনে গড়ফার এই কার্যালয় থেকেই প্রচারে বেরোতেন সায়নী ঘোষ। এই কার্যালয়তেই প্রাক্তন দলের উচ্চ পদস্থ নেতাদের সাথে বৈঠক করতেন তিনি। এদিন সেই কার্যালয়ের সামনে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক হিসেবে দাবি করা কয়েকজন যুবক যুবতী। তাঁদের হাতে ছিল বিশ্বাসঘাতক, বেইমান লেখা কিছু পোস্টার! দেখা গেল, তাঁরাই নিজেদের তৃণমূল কর্মী হিসেবে দাবি জানিয়ে খুব সম্ভবত সায়নীর ওই কার্যালয়ের সেক্রেটারিকে সেখান থেকে বের করে দিয়ে পার্টি অফিসে তালা লাগালেন। তাঁদের বক্তব্য একটাই, “তৃণমূলের টিকিটে জিতে এসে এখন অন্য দলের হয়ে জনসংযোগ করবেন! এসব চলতে পারে না!”