বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতকে স্বাধীন করতে প্রাণ দিয়েছেন বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী। সেই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকে নাম আসে ক্ষুদিরাম বসুর (Khudiram Bose)। দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়ে বীরত্বের ইতিহাস তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই ক্ষুদিরামের মৃত্যুবার্ষিকীতে দেশের স্বাধীনতায় তাঁর গুরুত্ব স্মরণ করালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের ভিটেতে গিয়ে তাঁকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাথেই ওই ভিটে সংস্কার নিয়ে একাধিক ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্যের পড়ুয়াদের সিলেবাস নিয়ে বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের পড়ুয়াদের সিলেবাস নিয়ে বড় ঘোষণা!
এদিন, ক্ষুদিরামের ভিটেতে দাঁড়িয়ে সেই ভিটে সংস্কার করা নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরামের বাসভবনে গ্যালারি থেকে শুরু করে সংগ্রহশালা তৈরি করার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও সেখানে লেজার শোর ব্যবস্থা করার কথাও বলেন তিনি। একই সাথে ক্ষুদিরাম বসু এবং পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে যে সকল পড়ুয়ারা বা গবেষকরা গবেষণা করতে চান, তাঁদের আলাদাভাবে থাকার ব্যবস্থাও করা হবে বলেই জানান মুখ্যমন্ত্রী। আর সেসব কাজের জন্য মোহবনি উন্নয়ন বোর্ডকে 5 কোটি টাকা দান করেন তিনি।
এসবের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতায় ক্ষুদিরামের অবদান পড়ুয়াদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবং তাঁর মহান জীবন পাঠে নতুন প্রজন্মকে আরও উদ্বুদ্ধ করতে রাজ্যের পড়ুয়াদের সিলেবাস নিয়ে বড় ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সিলেবাসের 4 লাইনের মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে ক্ষুদিরাম বসুকে। এমন কাজ অনুচিত। ক্ষুদিরামের ইতিহাস ছড়িয়ে দিতে হবে স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে। আর সেজন্যই এবার সিলেবাসে ক্ষুদিরামের অবদান বৃহৎ পরিসরে দেখাতে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তরের কাছে আবেদন জানান তিনি।
অবশ্যই পড়ুন: ঋতব্রতদের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টের! দলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করবে কালীঘাট তৃণমূল
মনে করা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর এবার রাজ্যের সমস্ত স্কুল বিশেষ করে সরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের পাঠ্য বই এবং সিলেবাসে বড় পরিসরে জায়গা পাবেন স্বাধীনতা সংগ্রামী ক্ষুদিরাম বসু। এহেন একজন মহান ব্যক্তির দেশাত্মবোধ এবং জীবন সংগ্রাম পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরতে সিলেবাসে বদল আনার পক্ষে সমর্থন জানাচ্ছেন রাজ্যের সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও!