১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত স্কলারশিপ দিচ্ছে টাটা, জানুন অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া

অনন্যা সরকার, কলকাতা: স্কুল, কলেজ ও ডিপ্লোমার কোর্সের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন, এমন মেধাবী অথচ আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের সাহায্য করার জন্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘টাটা ক্যাপিটাল লিমিটেড’ (Tata Capital Group) প্রতি বছর একটি বৃত্তি বা স্কলারশিপ প্রোগ্রামের আয়োজন করে থাকে। এবছরও তাঁর ব্যতিক্রম নয়। শুরু হয়ে গেছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ‘টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপ’ (Tata Capital Pankh Scholarship)-এর জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া। চলুন তাহলে এই স্কলারশিপের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া সর্ম্পকে বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপের যোগ্যতা

টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপ প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও স্নাতক (ডিপ্লোমা / সাধারণ স্নাতক / পলিটেকনিক / আইটিআই) স্তরের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, যাতে অভাব অনটন তাদের উচ্চশিক্ষা ও স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করার শর্তগুলি হল – 

  • ১.আবেদনকারী ভারতের নাগরিক হতে হবে। 
  • ২.তাকে বর্তমানে ভারতের যেকোনও স্বীকৃত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ/দ্বাদশ শ্রেণি, বি.এসসি., বি.এ., বি.কম., আইটিআই (ITI) কিংবা কোনো ডিপ্লোমা বা পলিটেকনিক কোর্সে অধ্যয়নরত হতে হবে।
  • ৩.আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে আগের শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষায় অন্তত ৬০% নম্বর থাকতে হবে।
  • ৪.টাটা-র এই স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর পরিবারের মোট বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: বাংলার স্কুলে স্কুলে ‘হর ঘর বিমা’র পাঠ পড়াবে LIC, নির্দেশিকা শিক্ষা দফতরের

টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপের সুবিধা ও আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ

ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বর এবং নির্দিষ্ট কোর্সের ওপর ভিত্তি করে টাটা স্কলারশিপের আর্থিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। 

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য –

  • ৬০% থেকে ৮০% নম্বর পেলে টিউশন ফি-র ৮০% অথবা সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা (যেটা কম হবে) দেওয়া হয়।
  • ৮০%-এর বেশি ও ৯০%-এর মধ্যে নম্বর থাকলে স্কুলের টিউশন ফি-র ৯০% অথবা সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রেও যেটা কম হবে সেটাই দেওয়া হবে। 
  • কোনও শিক্ষার্থীর ৯০%-এর ওপরে নম্বর থাকলে টিউশন ফি-র ১০০% কিংবা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকার মধ্যে যেটা কম হবে সেই পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে।

জেনারেল গ্রাজুয়েট, পলিটেকনিক, ডিপ্লোমা, আইটিআই-এর শিক্ষার্থীদের জন্য:

  • ৬০% থেকে ৮০% নম্বর পেলে টিউশন ফি-র ৮০% অথবা সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকার মধ্যে যেটা কম হবে, সেটাই স্কলারশিপ হিসেবে মিলবে।
  • ৮০%-এর বেশি ও ৯০%-এর মধ্যে নম্বর থাকলে টিউশন ফি-র ৯০% অথবা ১৫,০০০ টাকা মিলবে। এর মধ্যে যেটা কম হবে। 
  • ৯০%-এর বেশি নম্বর পাওয়া আবেদনকারীরা টিউশন ফি-র ১০০% অথবা সর্বোচ্চ ১৮,০০০ টাকা পেতে পারেন। 

টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপের আবেদন প্রক্রিয়া 

এই স্কলারশিপ স্কিমে আবেদনের পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। সহজ কয়েকটি ধাপেই আবেদন করতে পারবে পড়ুয়ারা। 

  • প্রথমে অফিসিয়াল Buddy4Study পোর্টালে গিয়ে  ‘অ্যাপ্লাই নাও’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
  • এরপর আবেদনকারীর রেজিস্টার্ড আইডি ব্যবহার করে লগ-ইন করতে হবে। নতুন ইউজার হলে ইমেল আইডি, মোবাইল নম্বর বা গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে রেজিস্টার বা সাইন-আপ করতে হবে।
  •  লগ-ইন করার পর,  “টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ২০২৬-২৭” এই পেজটি খুলবে। সেখানে ‘ স্টার্ট অ্যাপ্লিকেশন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।
  • এরপর আবেদনকারীকে সঠিকভাবে ব্যক্তিগত তথ্য, যোগাযোগের বিবরণ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার শূন্যস্থানগুলি পূরণ করুন।
  • এরপর কোম্পানির নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্রগুলি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
  •  ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’-এর বক্সে টিক দিতে হবে। এরপর প্রিভিও অপশনে ক্লিক করে সব তথ্য ঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিয়ে ‘ সাবমিট’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

আরও পড়ুন: LPG থেকে ফিক্সড ডিপোজিট, ATM! ১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে একাধিক নিয়ম

টাটা ক্যাপিটাল পাঙ্খ স্কলারশিপের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র

আবেদন করার আগে কয়েকটি জরুরী নথিপত্রের ডিজিটাল কপি প্রস্তুত রাখতে হবে, এগুলি হল-

১. সরকারিভাবে ইস্যু করা ছবিসহ আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ডের মতো যেকোনো পরিচয়পত্র। 

২. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।

৩. আগের শিক্ষাবর্ষের মার্কশিট।

৪. বর্তমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড অথবা ‘বোনফাইড সার্টিফিকেট’।

৫. সরকারের তরফে ইস্যু করা ইনকাম সার্টিফিকেট।

Leave a Comment