ঐতিহাসিক চুক্তি! ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ন্ত্রণে নিল আমেরিকা

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডারে প্রবেশাধিকার পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির মুখপাত্র রদ্রিগেজের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল ভাণ্ডারের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার হাতে আসবে। এমনকি এটিকে ‘বিশ্বের ঐতিহাসিক তেল চুক্তি’ হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার তেলের ভাণ্ডারের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের হাতে

সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে আজ ট্রাম্প লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র এইমাত্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিটি স্বাক্ষর করেছে। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিঠ হেগসেথ ভেনেজুয়েলার সম্মানিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে এবং বেসরকারি খাতের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, কোনও অর্থ ব্যয় ছাড়াই দেশটির ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল মজুদের উপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।”

এমনকি ট্রাম্প আরও লেখেন, “এই ঐতিহাসিক লেনদেনটি আমেরিকার তেল মজুদকে দ্বিগুণের বেশি শক্তিশালী করবে, এবং আমাদের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে আমেরিকানদের পকেট সাশ্রয় করবে। কারণ এই চুক্তি জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনবে, এবং একই সাথে ভেনেজুয়েলাকে অভূতপূর্ব সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। এই চুক্তিটি ভেনেজুয়েলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবিকাশমান সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। এই চুক্তির জন্য ধন্যবাদ। আমেরিকাকে আবারও মহান করে তুলুন।”

এমনকি ভেনেজুয়েলা সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ নিজেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, “এই চুক্তির আওতায় ১৭টি তৈলখনি থেকে তেল উত্তোলন করা হবে, যেগুলিতে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এই চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে, এবং ২০৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি কর আদায় হতে পারে।”

আরও পড়ুন: ফের বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! কত হল আজকের রেট?

জানিয়ে দিই, বর্তমানে দেশটিতে আনুমানিক ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে। এমনকি মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশ। তবে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে দেশটি বিশ্বের মোট চাহিদার মাত্র ১ শতাংশ তেল উৎপাদন করতে পারে। তবে যেহেতু ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে প্রায় ৬ মাস ধরে যুদ্ধ চলছে, তাই তেলের চাপ মোকাবিলার ক্ষেত্রেই এবার এই পদক্ষেপের পথে হাঁটলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment