অনন্যা সরকার, হাওড়া: চারিদিক ঝকঝকে তকতকে, সুন্দর চকমেলানো মেঝে, মসৃণ পাথরের স্ল্যাব বসানো টেবিল, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পাত্রে রাখা খাবার, পরিবেশক ও ভোজনকারী উভয়ের মুখেই হাসি – কী ভাবছেন কোনও রেস্টুরেন্ট বা হোটেলের ডাইনিং রুমের বর্ণনা করছি? না এই দৃশ্য হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের (Bantra MSPC High School) মিড ডে মিল ডাইনিং হলের। এই শতাব্দী প্রাচীন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও অভিভাবকদের উদ্যোগে নতুন করে সেজে উঠেছে পড়ুয়াদের মিড ডে মিল খাওয়ার ঘরটি। মঙ্গলবার থেকেই খুলে গেল এই দ্বিপ্রাহরিক আহার কক্ষটির দরজা।
প্রাক্তনীদের অনুদানে ডাইনিং হলটির নবরূপে সংস্কার হল
ব্যাঁটরা এমএসপিসি স্কুল হাওড়ার কদমতলা অঞ্চলের একটি সুপরিচিত সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়। ১৩০ বছরের পুরোনো এই স্কুল সাক্ষী ছিল দুই বিশ্ব যুদ্ধ ও দেশের স্বাধীনতা থেকে শুরু করে নানান ঐতিহাসিক ঘটনার। এই বিদ্যালয় থেকে অসংখ্য কৃতী শিক্ষার্থী পাস করে বেরিয়েছেন। তারা এখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। তবে, স্কুলের অবদান তারা ভুলে যাননি। তারই প্রমাণ দেখা গেল মঙ্গলবার, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে দরজা খুলে গেল নবরূপে সজ্জিত ডাইনিং হলের।
এমএসপিসি স্কুলের প্রাক্তনী, অভিভাবক ও ছাত্রবৃন্দদের দেওয়া প্রায় ১,৭৮,০০০ টাকা অনুদানে এই ডাইনিং নতুন রূপে সেজে উঠেছে। উন্নত ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে ছাত্রদের খাবার জায়গাটি। এদিন মিড ডে মিল কর্মীদের দেখা গেল thispossible ক্যাব ও আপ্রাণ পরে ছাত্রদের খাবার পরিবেশন করতে। নতুন রূপে ডাইনিং হলটিকে পেয়ে সব পড়ুয়াদের মুখেই হাসি ফুটেছে।
আরও পড়ুন: দেওয়া শুরু ২০১১ সালের রিভ্যালিডেটেড ‘টেট সার্টিফিকেট’, কীভাবে পাবেন?
উল্লেখ্য, ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় ১৮৮৬ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাওড়া কদমতলা অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। ১৯১৮ সালের ‘কলকাতা গেজেট’-এর মতো পুরনো নথিপত্রেও এই বিদ্যালয়ের উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মধুসূদন পাল চৌধুরীর নামানুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয়।