=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.

বাংলার প্রতিটি স্কুলে চলবে বিশেষ নজরদারি, ১৪ দফার কড়া নির্দেশিকা রাজ্য সরকারের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: স্কুলে (School) পড়ুয়াদের শিক্ষাদানের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও সতর্ক হল স্কুলশিক্ষা দফতর। কিছুদিন আগে কলকাতার একটি বেসরকারি এবং একটি সরকারপোষিত স্কুলে সাপের কামড়ের ঘটনা সামনে আসায় নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা দপ্তর। ২৪ সেপ্টেম্বর জেলার স্কুলপরিদর্শকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু সরকারি স্কুল নয়, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত, সরকারপোষিত এবং বেসরকারি স্কুলগুলিতেও এই নিয়মগুলি মানতে হবে। জেলা স্কুলপরিদর্শকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট স্কুলে নির্দেশগুলি দ্রুত কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। পড়ুয়াদের সুরক্ষা এবং স্কুলে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মোট ১৪টি বিষয় নির্দেশিকার আওতায় রাখা হয়েছে।

স্কুলের কোথায় বিপদ, খতিয়ে দেখতে হবে

স্কুলের কোনও অংশ পড়ুয়াদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কি না, তা নিয়মিত দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ক্লাসরুম, সিঁড়ি, বারান্দা, শৌচাগার থেকে শুরু করে মাঠ, বাগান, রান্নাঘর, ভাঁড়ার, নর্দমা, জল জমার জায়গা, নির্জন অংশ এবং নির্মাণ এলাকা ইত্যাদি কোনও জায়গাই বাদ যাবে না। কোথাও সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশেষ করে সাপ বা অন্য সরীসৃপ যাতে স্কুল চত্বরে আশ্রয় না নিতে পারে, সে জন্য ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কার রাখা, নর্দমা ও বিভিন্ন ফাঁকফোকর পরীক্ষা করা এবং সীমানা ও বাগানের দিকে নজর দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। পড়ে থাকা ইট, সিমেন্টের টুকরো, নির্মাণের বর্জ্য, আবর্জনা বা পরিত্যক্ত জিনিসও সরিয়ে ফেলতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে প্রতিদিন নজর রাখার জন্য নির্দিষ্ট কর্মী এবং তাঁদের উপস্থিতির পৃথক রেকর্ড রাখার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে পোকামাকড় ও সরীসৃপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

সাপের কামড় বা অসুস্থতায় দেরি নয়

জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর জন্য প্রত্যেক স্কুলকে লিখিত পরিকল্পনা তৈরি করে রাখতে হবে। সেখানে সাপের কামড়, পড়ুয়া আহত হওয়া, অসুস্থতা, আগুন লাগা বা অন্য বিপদের সময় কী ভাবে পরিস্থিতি সামলানো হবে, কার দায়িত্ব কী, কোথায় প্রাথমিক চিকিৎসা মিলবে এবং প্রয়োজনে কী ভাবে হাসপাতালে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হবে, তা উল্লেখ থাকবে। পড়ুয়া শরীরে ব্যথা, অস্বস্তি, আঘাত বা সাপের কামড়ের কথা জানালে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। গুরুতর পরিস্থিতিতে অভিভাবককে খবর দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাতে হবে। অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা আটকে রাখা যাবে না।

আরও পড়ুন: একধাক্কায় ৬০০ টাকা কমে গেল রান্নার গ্যাসের দাম? দেখে নিন রেট

স্কুলের প্রয়োজনীয় জায়গায় সিসি ক্যামেরা চালু রাখতে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে। কোনও ঘটনার তদন্তে প্রয়োজন হতে পারে এমন ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। তবে শৌচাগার, ওয়াশরুম বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্ত জায়গায় ক্যামেরা রাখা যাবে না। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শিশু সুরক্ষা, প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পড়ুয়াদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। স্কুলে ঘটনা ও অভিযোগ নথিভুক্ত করার জন্য আলাদা খাতা রাখতে হবে। সাপ বা অন্য সরীসৃপের কামড়, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, গুরুতর নিরাপত্তা সমস্যা এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ সেখানে লিখে রাখতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে সমস্যা চিহ্নিত হলে তা ঠিক করতে হবে। গুরুতর কোনও ঘটনা বা বড় অভিযোগ হলে জেলা স্কুলপরিদর্শককে দ্রুত জানিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। একই সঙ্গে অভিভাবক ও পড়ুয়াদের অভিযোগ জানানোর নির্দিষ্ট ব্যবস্থাও রাখতে হবে এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

Leave a Comment