সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ডলারের বিপরীতে আরও খেই হারাল ভারতীয় রুপি (Indian Rupee)। মঙ্গলবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ অব্যাহত থাকায় দিনের শুরুতেই লেনদেনের সময় তা ৪ পয়সা কমে ৯৬.৩৯-এ নেমে আসে। অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ডলার বিক্রির কারণে দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে ইন্ডিয়ান রুপি। এমনকি শেয়ার বাজারের অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়।
ডলারের বিপরীতে ফের মূল্য পতন ভারতীয় রুপির
সোমবার ১০ পয়সা দর হারানোর পর মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দাম ৯৬.৩৫-এ স্থির হয়। ফরেক্স ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় বাজারে দেশীয় মুদ্রা ৯৬.২৯-এ খোলার পর তা ৯৬.৩৯-তে নেমে আসে। এ বিষয়ে অনিল কুমার ভানসালি জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাংক রুপিকে ৯৬.৩৩-এর পতন থেকে রক্ষা করলেও তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০.৬৩ ডলার এবং ডলার সূচক ১০২.১২-তে নেমে আসে। যদিও তা সত্ত্বেও এফপিআই এবং তেল কোম্পানিগুলির ডলারের চাহিদা কমেনি।
রিপোর্ট বলছে, ফিউচার ট্রেডে ব্রেন্ট ক্রুড ০.২৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০.৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এমনকি ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলার ইন্ডেক্স ০.০৪ শতাংশ কমে ১০২.১২-তে দাঁড়িয়েছে। ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে দালাল স্ট্রিট থেকেও। যার কারণে দিনের শুরুতেই আজ সেনসেক্স ১২০.২২ পয়েন্ট বেড়ে ৭২,৫৩৫.১৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি নিফটি ৪৭.১৫ পয়েন্ট বেড়ে ২২,৬০৩.১০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: “আইন সকলের জন্য সমান” হুমায়ুনের গ্রেফতারি নিয়ে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
এদিকে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠক, যা চলবে তিন দিন ধরে। পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং এর ফলে তৈরি অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির প্রেক্ষিতেই আরবিআই এবার সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে রেপো রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.৫০ শতাংশ করা হয়। এরপর ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালজুড়ে অপরিবর্তিত থেকে ২০২৫ সাল থেকেই তা কমানো শুরু হয়, এবং বর্তমানে পলিসি রেট দাঁড়িয়েছে ৫.২৫ শতাংশ।