সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কল্পনা করুন, ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ট্রেক করছেন, কানে আসছে ঝর্ণার আওয়াজ। তাহলে কেমন হয়? ট্রেক শেষে চোখের সামনে বিশালাকার ঝর্ণা দেখলে মনটা জুড়িয়ে যাবে তো আপনারও? হ্যাঁ, এমনই দৃশ্য বাংলার বুকে দেখতে পাবেন আপনি। আপনিও যদি প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে ইচ্ছুক হয়ে থাকেন, বিশেষ করে ট্রেকিং ভালোবেসে থাকেন, তাহলে এই পুজোয় ঘুরে আসতে পারেন ‘পিটিদিরি ঝর্ণা’ (Pitidiri Waterfalls)-এ।
পুজোয় ঘুরে আসুন অযোধ্যা পাহাড়ের ‘পিটিদিরি ঝর্ণা’ থেকে
জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে কত অজানা অচেনা সুন্দর জায়গা যার কোনও ইয়ত্তা নেই, তেমনই একটি জায়গা হল পিটিদিরি ঝর্ণা। ‘পিটিদিরি ঝর্ণা’ পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের একটি অন্যতম অফবিট পর্যটনকেন্দ্র। অযোধ্যা পাহাড় থেকে রাঙা-খামারের পথে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পেরিয়ে পিটিদিরি গ্রামে পৌঁছতে হয়। সেখান থেকে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ১০–১৫ মিনিট হেঁটে পৌঁছনো যায় সুন্দর ঝর্ণাটিতে। এখানে কেউ আপনাকে বিরক্ত করবে না। প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে চাইলে এই জায়গার জুড়ি মেলা ভার। পাহাড়-জঙ্গলে ঘেরা এই ঝর্ণার জল মিলে তৈরি হয়েছে প্রাকৃতিক সুইমিং পুলের মতো সুন্দর জলাধার।
জলের গভীরতা প্রায় দেড় থেকে দুই জন মানুষের সমান, তাই সাঁতার না জানলে জলে নামা উচিত নয়। এখানে যেতে অবশ্যই স্থানীয় গাইড সঙ্গে নেওয়া ভালো। অযোধ্যা পাহাড়ের পাদদেশের একজন সরকারি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গাইড পর্যটকদের বাইকে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখান। এছাড়া চেমটাবুরু, চিপড়িংবুরু, মাঠাবুরু, জঙ্গল ট্রেকিং এবং ঘাঘকচা ঝর্ণা হয়ে ঠুড়গা ঝর্ণা ট্রেকিংয়েও এখানে গাইড পরিষেবা পেয়ে যাবেন।
আরও পড়ুনঃ কীর্ণাহারের সরকার বাড়িতে আজও পূজিত হন ‘ছোট হাতের দুর্গা’, ইতিহাস অবাক করবে আপনাকেও
কীভাবে যাবেন?
কলকাতা থেকে পুরুলিয়ার অযোধ্যা সার্কিটে বেড়াতে এলে সবথেকে ভালো অপশন হচ্ছে রাতের হাওড়া-চক্রধরপুর ট্রেনে ধরা। হাওড়া থেকে চক্রধরপুর এক্সপ্রেস হাওড়া থেকে রাত ১২:০৫ নাগাদ ছাড়ে, পুরুলিয়া পৌঁছায় সকাল ৭টা নাগাদ। তবে অযোধ্যা পাহাড় ঘুরতে হলে বরাভূম স্টেশনে নামলে সবথেকে সুবিধা হবে। সেখান থেকে পিটিদিরি ঝর্ণা সহ একাধিক জায়গা গাড়ি করে ঘুরে দেখতে পারবেন আপনি।