সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন অভিযানের বিরুদ্ধে দিল্লির রাজপথে চলা বিক্ষোভের মাঝেই পিস বন্ড নিয়ে দানা বাঁধল বড় ধরনের বিতর্ক। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা (Neha Bora) পুলিশের কাছে পিস বন্ড দিতে অসংকোচ জানিয়ে রাস্তার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই অবস্থান ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব অভিজিৎ দীপকেদের সঙ্গে যে মতবিরোধের জন্ম দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বড় পদক্ষেপ নেহা বোরার
গত ১৬ অক্টোবর মান্ডি হাউসে বিক্ষোভ চলাকালীন আটক হয়েছিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা। তবে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বন্ড সই করতে সাফ না করে দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি নেহা অভিযোগ করেন যে দিল্লি পুলিশ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ আন্দোলনগুলিকে গলা টিপে হত্যা করতে পিস বন্ডকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
নেহার বক্তব্য, “একদিকে সংবিধান আমাদের ভিন্নমত এবং প্রতিবাদ করার অধিকার দেয়। অন্যদিকে শান্তি বিঘ্নিত করার নামে আমাদের বারবার আটক করা হয় এবং জামিন দিতে বাধ্য করা হয়। এমনকি তিনি আরও বলেন যে পিস বন্ডে স্বাক্ষর করা মানে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার বিসর্জন দেওয়া। এটি তাত্ত্বিকভাবে সম্পূর্ণ ভুল আর আইসা এটিকে কখনও স্বাভাবিক হতে দেবে না। বন্ড সই করার পরিবর্তে নেহা বোরা তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ছয়টি এফআইআর-র অনুলিপি এবং সমস্ত আইনি নথিপত্র চান এবং কোনও মুচলেকা ছাড়াই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
এদিকে এই পুরো ঘটনার তুলনা করা হচ্ছে গত ১০ অক্টোবর সিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত যন্তরমন্তর ২.০ বিক্ষোভের সাথে। নিট আন্দোলনের পর জেন-জি এর পোস্টার বয় হিসেবে উঠে আসা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা যখন ১০ অক্টোবর সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লি পৌঁছান, তখন বিমানবন্দর থেকে তাঁদেরকে আটক করা হয়। এমনকি সিজেপির নেতার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকা এবং একটি বন্ড আন্ডারটেকিং নেওয়া হয়, যার পর তাঁদেরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এরপর ফের সৌরভদের আটক করা হয় যন্তরমন্তরে প্রবেশের অপরাধে।
আরও পড়ুন: TET পাশ করেও ফেল দেখানোর অভিযোগ, ২০২৫-র প্রাথমিক নিয়োগ ঘিরে হাইকোর্টে মামলা
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে যখন এক ব্যবহারকারী অভিজিৎ দীপকের তুলনায় নেহাকে অধিক প্রতিভাবান এবং আসল জেন-জি আইকন হিসেবে উল্লেখ করেন, তখন দীপকে নিজেই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লেখেন যে “আমি একমত”। এর পাশাপাশি ইন্ডি জোটের বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সাথে নেহা বোরাকে সামনের সারিতে হাঁটতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই স্পষ্ট হয় যে তিনি দিল্লির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন।