বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মশার (Mosquito) জ্বালায় জীবন অষ্টাগত আমজনতার। সবচেয়ে বড় কথা, মশাবাহিত নানান রোগে মৃত্যু হয় অসংখ্য মানুষের। আর সেই মৃত্যু মিছিল রোধ করতে এবং মশাবাহিত রোগ আটকাতে বিরাট পদক্ষেপ নিল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় (University of Burdwan)। মশার বংশ নির্বংশ করতে পারে এমন ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করে ফেলল তারা। জানা যাচ্ছে, বিশেষত কিউলেক্স কুইনকোফেসিয়াটাস মশা নিধনে যে ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন সেটাই তৈরি করে ফেলেছেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম ভট্টাচার্য এবং তাঁর দুই ছাত্র-ছাত্রী।
মশা নিধনে কাজ করবে এই ব্যাকটেরিয়া
জানা যাচ্ছে, মশার বংশ ধ্বংস করতে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম বাবু এবং তাঁর দুই পড়ুয়া নন্দিতা চৌধুরি ও ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য গবেষণায় অ্যালকালিজেনেস ফেকালিস নামক ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়েছেন। বলাই বাহুল্য, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের মশা বিশেষজ্ঞ গৌতম বাবু। এই ক্ষেত্রে একাধিক গবেষণা চালিয়েছেন তিনি। ছাত্র-ছাত্রীদের হাত ধরে করেছেন একাধিক আবিষ্কার। এবার, সেই গৌতম ভট্টাচার্যের হাতেই উঠে এল মশা নিধনের ব্যাকটেরিয়া।
এ প্রসঙ্গে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম বাবু জানান, বর্ধমানেরই একটি নির্মাণস্থলের রেনওয়াটার পিট থেকে স্বাভাবিকভাবে মৃত মশার লার্ভা সংগ্রহ করেছিলেন তাঁরা। পরবর্তীতে ওই ব্যাকটেরিয়াকে আইসোলেট বা আলাদা করতে পেরেছিলেন গৌতম বাবুরা। এরপর ওই ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে মশার লার্ভার উপর নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। আর সেই পরীক্ষায় দেখা গেল ওই বিশেষ ব্যাকটেরিয়াটি কাউলেক্স মশার লার্ভা ধ্বংস করতে সক্ষম।
অবশ্যই পড়ুন: ৪০ বছরের সম্পর্কে ইতি, তৃণমূল ছাড়লেন রাজ্যের দু’বারের মন্ত্রী
বলাই বাহুল্য, ল্যাবরেটরির ভেতরে এবং বাইরের মশার লার্ভার ক্ষেত্রেও দুর্দান্ত কাজ করছে বিশেষ ব্যাকটেরিয়া। আর এই বিশেষ আবিষ্কারের ফলে মুখ উজ্জ্বল হয়েছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের। অধ্যাপক গৌতম ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই ব্যাকটেরিয়া পাউডার হিসেবে মশা মারার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এমনকি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহার করা যেতে পারে এই ব্যাকটেরিয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আবিষ্কার রাজ্যে মশা নিধন করে মশা বাহিত রোগ আটকাতে পারবে।