সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দুয়ারে কড়া নাড়ছে বর্ষা (Wet season)। এই সময়ে এক বা দুদিনের ছুটিতে জল, ঝরনা, পাহাড় রয়েছে এমন জায়গায় ঘুরতে যেতে ইচ্ছা করছে? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে ঘুরে আসতে পারেন কলকাতা থেকে কিছু দূরে থাকা জলপ্রপাতের শহর থেকে। সেখানে গেলে পাবেন নীল জলের লেক। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।
বর্ষায় ঘুরে আসুন জলপ্রপাতের শহর থেকে
পাহাড়, নদী, জঙ্গলে ঘেরা সুন্দর জায়গা দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই যেতে হবে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) রাঁচিতে। আপনার যাত্রা শুরু করতে পারেন রাঁচি শহর থেকে ৪০ কিমি দূরে সূর্য মন্দির থেকে। এরপর সেখান থেকে গাড়ির দূরত্বে ২৮ থেকে ৩০ মিনিটের দূরত্বে রয়েছে দশম ফলস অর্থাৎ জলপ্রপাত। বর্ষার সময়ে এই জলপ্রপাত আলাদাই রূপ খোলে। রাঁচির অন্যতম সুন্দর জলপ্রপাতগুলির মধ্যে অন্যতম হল দশম জলপ্রপাত। এরপর রয়েছে হুন্দ্রু জলপ্রপাত। রাঁচি শহর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে হুন্দ্রু জলপ্রপাত। প্রায় ৩২০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে আছড়ে পড়ছে সুবর্ণরেখা নদী।
হুন্দ্রু জলপ্রপাত থেকে ঘুরে নিতে পারেন ঘাটশিলাও। এছাড়া তালিকায় রয়েছে আরও কিছু ঝর্ণা বা জলপ্রপাত যা আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দিতে বাধ্য। এবার আসা যাক সীতা ঝর্না নিয়ে। ৪৩ মিটার উঁচু পাহাড় থেকে রাধু নদী নেমে এসে তৈরি হয়েছে সীতা জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতও রাঁচি শহর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বলা হয়, এই জলপ্রপাতের উপর পা রেখেছিলেন সীতা। তাই তাঁর নামেই জলপ্রপাত।
ঘুরে আসুন জোনহা জলপ্রপাত
জোনহা জলপ্রপাত…রাঁচির অন্যতম বিখ্যাত জায়গা। গৌতম ধারা নামেও পরিচিত জোনহা জলপ্রপাত। গৌতম বুদ্ধের নাম অনুসারেই জোনহা জলপ্রপাতের নাম রাখা হয়েছে। ১৪১ ফুট উচ্চতা থেকে সুবর্ণরেখা নদী নেমে তৈরি হয়েছে এই জলপ্রপাত। এই জলপ্রপাতও রাঁচি শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। তবে এই জলপ্রপাতের কাছে যাওয়ার পথ খুব একটা সহজ নয়, এখানে পৌঁছতে হলে ৭৭২ ধাপ সিঁড়ি ভাঙতে হবে।
কীভাবে যাবেন?
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, এত সুন্দর জায়গাগুলোতে আপনি কীভাবে পৌঁছাবেন? সেক্ষেত্রে কলকাতা থেকে আপনি ট্রেন কিংবা বাসে করে অনায়াসেই রাঁচি পৌঁছে যেতে পারেন। এরপর সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি বুক করে জায়গাগুলি ঘুরে নিতে পারেন।