বুলেট ট্রেন প্রকল্পে নতুন মাইলফলক, বসল গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ

সহেলি মিত্র, কলকাতা: সেদিন হয়তো খুব বেশি দূরে নয় যখন ভারতবাসী বুলেট ট্রেনে (Bullet Train) উঠতে পারবেন। বর্তমানে কোটি কোটি দেশবাসী চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করছেন, কবে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের কাজ শেষ হয় এবং তাঁরা সেটায় উঠতে পারেন। এদিকে এই অপেক্ষার মাঝেই বুলেট ট্রেন প্রকল্পে মেগা মাইলফলক অর্জন করল ভারতীয় রেল। জানা গিয়েছে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে এখন আহমেদাবাদের অনুপম ফ্লাইওভারের উপর ৮০ মিটার দীর্ঘ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ইস্পাতের সেতু সফলভাবে বসানো হয়েছে।

বুলেট ট্রেন প্রকল্পে নতুন মাইলফলক অর্জন রেলের

সূত্রের খবর, এই স্টিলের সেতুটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সেতুর মাধ্যমে প্রকল্পটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাইলফলক অর্জন করেছে। পশ্চিম রেলওয়ের আহমেদাবাদ-মুম্বাই প্রধান লাইনের (সবরমতি-ভাটভা সেকশন) উপর নির্মিত অনুপম ফ্লাইওভারটি (রেলওয়ে ওভারব্রিজ) খোখরা অ্যাপারেল পার্ক মেট্রো স্টেশন এবং কঙ্কারিয়া লেককে সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথ। বুলেট ট্রেনের সেতুটি এই রেললাইনের সমান্তরালে চলে গেছে।

রেল সূত্রে খবর, আহমেদাবাদ জেলার বুলেট ট্রেন সেতুটি মূলত স্প্যান-বাই-স্প্যান (এসবিএস) নির্মাণ পদ্ধতিতে তৈরি করা হচ্ছে। সাধারণত স্প্যানের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৫০ মিটার হয়ে থাকে। তবে, অনুপম ফ্লাইওভার ক্রসিং-এ বিদ্যমান ফ্লাইওভারের উভয় পাশে পিলার স্থাপন করতে হয়েছিল, যার ফলে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি স্প্যানের প্রয়োজন হয়।

সেতুর ওজন কত?

সবথেকে বড় কথা, এই সেতুটির ওজন সম্পর্কে শুনলে আপনিও আকাশ থেকে পড়বেন। ১,০০৪ মেট্রিক টন ওজনের, ১৪ মিটার উঁচু এবং ১৪.৪ মিটার চওড়া এই ইস্পাতের সেতুটি মহারাষ্ট্রের ওয়ার্ধা (নাগপুর)-এ অবস্থিত জেটওয়ার্কের উৎপাদন কেন্দ্রে তৈরি করে নির্মাণস্থলে নিয়ে আসা হয়েছিল। সেতুটির সংযোজন এবং জলে নামানোর সুবিধার্থে, ১০.৮ মিটার বাই ১৪০ মিটার পরিমাপের এবং প্রায় ১,১১০ মেট্রিক টন ওজনের একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা অস্থায়ী লঞ্চিং কাঠামো নির্মাণ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া অতীত! মশা মারতে বিশেষ ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের

মাটি থেকে প্রায় ১৮ মিটার উপরে অস্থায়ী ট্রাসের উপর ১৮টি স্কিড বিন্যাস এবং ৩৫,৬০২টি টর্স-শিয়ার টাইপ হাই স্ট্রেংথ (TTHS) বোল্ট ব্যবহার করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল । এটি উচ্চ কাঠামোগত অখণ্ডতা নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব বৃদ্ধি এবং কম্পন নিয়ন্ত্রণের জন্য কাঠামোটিতে একটি C5 প্রতিরক্ষামূলক পেইন্টিং সিস্টেম এবং ইলাস্টোমেরিক বিয়ারিং প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ জোরালো ভূমিকম্প এলেও এই সেতুর ক্ষতি হবে না বলে দাবি করা হচ্ছে।

Leave a Comment